শুক্রবার,২০ অক্টোবর ২০১৭
হোম / বিজ্ঞান-প্রযুক্তি / ব্লু হোয়েলঃ আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে যে গেম
১০/১১/২০১৭

ব্লু হোয়েলঃ আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে যে গেম

-

দ্রুতগতির ইন্টারনেট এবং নিত্যনতুন টেকনোলজির যুগে তরুণ সমাজে নানাধরনের গেম নিয়ে মাতামাতি থাকাটাই স্বাভাবিক। এই মাতামাতি যখন সীমা ছাড়িয়ে পাগলামিতে পৌঁছায় তখনই সমস্যা সৃষ্টি করে। আর গেমটি যদি হয় ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জের মতো, তখন গেম খেলার নেশাটা এক সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ক্ল্যাশ অফ ক্ল্যান, লিগ অফ লেজেন্ডস কিংবা মিনি মিলিশিয়া - এরকম আরো অনেক গেমেই বুঁদ হয়ে আছে বর্তমান তরুণ প্রজন্ম। গেম খেলা খারাপ তা কিন্তু নয় বরং অনেক গেমেই রয়েছে ক্ষণিকের আনন্দের পাশাপাশি চিন্তাশক্তির বিকাশ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা। তবে এর বিপরীত মেরুতে রয়েছে ‘ব্লু হোয়েল গেম’ বা ‘ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ’ নামের গেমটি। ঝুঁকিপূর্ণ এই গেম খেলতে গিয়ে মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপন্ন ও আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছেন অনেকেই। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো গেমটিতে চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করতে গিয়ে আত্মহত্যাও করছেন অনেকে।

ব্লু হোয়েল মূলত একের পর এক চ্যালেঞ্জ কমপ্লিট করতে হবে এমন ফরম্যাটের গেম। গেমটিতে অ্যাডমিনের নির্দেশ অনুসরণ করে ৫০দিন ধরে একের পর এক টাস্ক বা চ্যালেঞ্জ শেষ করতে হয়। আর এই চ্যালেঞ্জের মধ্যে নিজেকে আঘাত করা, গভীর রাতে হরর মুভি দেখা এবং শেষ ধাপে এসে আত্মহত্যা করার মতো চ্যালেঞ্জও দেয়া হয় এখানে। গেইমার ঠিক কোন লেভেলে আছেন তা নিয়মিত পোস্ট করা হয়। যার ফলে আত্মবিধ্বংসী এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নাম লেখান অনেক মানুষ, চ্যালেঞ্জের নেশায় পাগল হয়ে নিজের ক্ষতি করে বসেন গেইমার।

একের পর এক নোটিফিকেশনের ফলে গেমটি একবার ডিভাইসে নিলে তা থেকে চোখ সরানোটাও কঠিন হয়ে পরে অনেকের জন্যই। প্রায়ই এটা এতটাই বিকৃত নেশার পর্যায়ে পৌঁছায় যে শুধুমাত্র রাশিয়াতেই তিন মাসের মধ্যে ১৬জন আত্মহত্যা করেছিল। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলসহ বেশ কয়েকটি দেশে এ-ধরনের আত্মহত্যার খবর পাওয়া যাচ্ছে গত তিন-চার বছর ধরে। সবচেয়ে আতংকের এবং দুশ্চিন্তার ব্যাপার হলো পাশের দেশ ভারত গেমটি সার্চে গুগল র‌্যাংকিং-এ রয়েছে টপে। ভারতে ইতিমধ্যেই ঘটেছে বেশ কিছু আত্মহত্যার ঘটনা যা সে দেশের প্রশাসনকে করে তুলেছে বিশেষভাবে চিন্তিত। বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশেও দিনে দিনে গেমিং ইন্ড্রাস্টি গড়ে উঠছে। একইসঙ্গে তরুণদের মধ্যে বাড়ছে গেম খেলার তাড়না। ব্লু হোয়েলের মতো গেমগুলোর ভয়াল থাবা থেকে তাই আমরাও মুক্ত নই।

রাশিয়া, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে গেম আসক্তি এবং এ ধরনের বিধ্বংসী গেম বন্ধে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। যেমন- গুগল, ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম, মাইক্রোসফটের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই গেমের সব লিংক সরানোর জন্য অনুরোধ করেছে ভারত। একই ধরনের পদক্ষেপ বাংলাদেশ সরকার বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হতে নেয়া উচিত। তা নাহলে ব্লু হোয়েল বা এ-জাতীয় গেমগুলোর কারণে মৃত্যুর খবর বাংলাদেশেও অহরহ ঘটতে থাকবে।

ব্লু হোয়েল এবং এধরনের বিধ্বংসী গেম থেকে দূরে থাকতে-

- সবার প্রথমেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এই গেইমটিকে মারাত্মক ক্ষতিকারক হিসেবে শনাক্ত করে আলোচনার দরকার আছে। ব্লু হোয়েলের পরিবর্তে অন্য কোনো গেইম খুঁজে বের করা বা পারিবারিক বিনোদনের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।

- এই গেইমটি মূলত বন্ধু-বান্ধবের মাধ্যমেই আপনার সন্তানের ডিভাইসে আসছে। বন্ধুর সামনে নিজের ইগো ঠিক রাখার জন্য রীতিমতো বড়াই করে এই গেইম খেলছে অনেক টিন-এজার। তাই সন্তান ও তার বন্ধু-বান্ধবদের দিকে নজর রাখুন। দরকার হলে তার বন্ধু-বান্ধবসহ একসাথে বসে আলোচনা করুন।

- এখনকার সমাজে ছেলে-মেয়েদের গেইম প্রীতি থাকবে তাই স্বাভাবিক। কিন্তু অনেক অভিভাবকেরই গেইম বা নিত্যনতুন প্রযুক্তি নিয়ে রয়েছে চরম অনীহা। তাই অভিভাবক ও সন্তানের মধ্যে কমিনিউকেশন গ্যাপ তৈরি হচ্ছে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলুন, গেইম-ডিভাইস নিয়ে সন্তানের সাথে আলোচনা করুন। তাকে এই ব্যপারটায় ও ভাল-মন্দ বেছে নিতে সাহায্য করুন।

- যদি দেখেন আপনার সন্তান এতদিনে এই গেইমটিতে আসক্ত হয়ে গিয়েছে তবে সাথে সাথে বাসায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন। দরকার হলে সন্তানকে নিয়ে মনোবিদের সাহায্য নিন।

- নাসিফ রাফসান