শুক্রবার,২০ অক্টোবর ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / সুঅভ্যাসে উন্নতি
১০/০৮/২০১৭

সুঅভ্যাসে উন্নতি

-

সুখী ও সফল জীবন সকলেরই কাম্য। আমরা জীবনের সবকিছুর মধ্যেই সুখ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করি। নিজেদের সফল একজন মানুষ করে তোলার জন্য সাধ্যমতো কাজ করে চলি। কিন্তু সবসময় সফলতা হাতে আসে না। তখন আমাদের মধ্যে এক ধরনের বিফলতার দুঃখ এসে ভর করে। জীবনে হার-জিৎ উভয়ই রয়েছে আর এটা মেনে নিয়েই আমাদের চলতে হবে। তাই আমরা নিজেদের সফল তখনই করতে পারবো যখন নিজের হেরে যাওয়াটা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে পারব। জীবনে চলার পথে খুব সাধারণ কিছু অভ্যাস সহজেই সাফল্য বয়ে আনতে পারে।

১। কথায় আছে, ‘সকালে রাজার মতো খাও, আর রাতে প্রজার মতো’। খেয়াল রাখবেন, রাতের খাবারগুলো যেন সব থেকে হালকা হয়। রাতের খাবারে সালাদের পরিমাণ বেশি রাখুন। চেষ্টা করুন রাতের খাবার তাড়াতাড়ি খেতে। আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে রাত ৮টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করুন।


২। রাতে জলদি ঘুমিয়ে পরার চেষ্টা করুন যেন পর্যাপ্ত ঘুম হওয়ার আগেই আপনাকে উঠে পড়তে না হয়। আমরা সব সময় আরও উদ্যোমী ও সৃষ্টিশীল হতে চাই। তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া এর জন্য ভীষণ জরুরি। দিনের শুরুতে আপনি যখন তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠবেন তখন বেশি প্রাণবন্ত ও উদ্যোমবোধ করবেন। আর ভালো ঘুমের পরই পরিপূর্ণভাবে সে উদ্যোম পাওয়া সম্ভব। আর রাতে একটি ভালো ঘুমের পর সারাদিন কাজ করলেও আপনি সহজে ক্লান্ত বোধ করবেন না। তাই উদ্যোম পরিপূর্ণভাবে কাজ করার জন্য যতোটা সম্ভব আগে ঘুমাতে যেতে হবে।

৩। ভোরে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস করুন। ঘুম থেকে উঠে কিছু আচরণবিধি মেনে চলুন। কিছুটা সময় ব্যায়াম করতে পারেন, এতে আপনার শরীর ও মন দুটোই উৎফুল্ল থাকবে। ভোরে ঘুম থেকে উঠার সবচেয়ে ভালো সময় হল ভোর ৪টা থেকে ৬টা।

৪। সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলুন। সকালে নাস্তা করার আগে মলমূত্র ত্যাগের অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে আপনার পাচনতন্ত্র ঠিক থাকবে। আর পাচনতন্ত্র ঠিক থাকলে আপনি শারীরিক ও মনসিক দুই ভাবেই প্রানবন্ত থাকবেন।


৫। নিয়মিত স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খান। শাক, সবজি ও ফলমূল বেশি করে গ্রহণ করুন। সাথে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান। নিয়মিত শস্যদানা খান। বেশি চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ভালো খাবার আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়।

৬। নিজের শরীর মাঝে মাঝে হালকা ম্যাসেজ করুন। নারিকেল তেল বা সরিষার তেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে ম্যাসেজ করতে পারেন। এটি আপনার ত্বকের জন্য খুব উপকারী।

৭। প্রতিদিন কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটান। দৈনন্দিন জীবনে আমারা শব্দ দূষণের কম ভুক্তভোগী নই। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা শব্দের মাঝেই থাকি। কিছুটা সময় এই শব্দ থেকে দূরে কাটান। এতে আপনার মানসিক প্রশান্তি আসবে ও আপনি আপনার কাজে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবেন।

এই অতি সাধারণ অভ্যাসগুলো একসাথে আয়ত্ত করা বেশ কঠিন, কিন্তু ধীরে ধীরে, ধাপে ধাপে চেষ্টা করলে এক সময় সবগুলোই মেনে চলতে পারবেন। একটু ধৈর্য ধরে সামনে এগিয়ে চলতে হবে কারণ এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো থেকেই আপনার দৈনন্দিন জীবনে অনেক বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

- মুশফিকুর রাহমান