শুক্রবার,২০ অক্টোবর ২০১৭
হোম / ফিচার / স্বাধীনতা যুদ্ধে মহিলাদের আত্মত্যাগ
১০/০৫/২০১৭

স্বাধীনতা যুদ্ধে মহিলাদের আত্মত্যাগ

- মকবুলা মনজুর

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কতোখানি আত্মত্যাগ করেছেন মেয়েরা এ প্রসঙ্গে বলতে গেলে কাজী নজরুল ইসলামের সেই বহু পরিচিত, বহুবার শ্রুত কবিতার চরণগুলোই ঘুরে-ফিরে বলতে ইচ্ছে করেঃ
কোন রণে কতোখুন দিলো নর লেখা আছে ইতিহাসে
কতো নারী দিলো সিঁথির সিঁদুর লেখা নাই তার পাশে।
কতো মাতা দিলো হৃদয় উপাড়ি, কতোবোন দিলো সেবা
বীরের স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে লিখিয়া রেখেছে কে বা?

কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নারীদের আত্মত্যাগ শুধু স্বামী, ভাই কিংবা সন্তানকে হারাবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই আত্মত্যাগের ব্যাপ্তি আরও বিশাল, আরও যন্ত্রণাক্ত এবং আরও মহিমাময়।

স্বাধীনতা আন্দোলনের শুরু থেকেই এদেশের মায়েরা সন্তানের বুকের রক্ত ঝরতে দেখেছেন, বোন হারিয়েছে ভাইকে, স্ত্রী হারিয়েছে স্বামীকে। “বার বার ফিরে আসে রক্তাপ্লুত শার্ট” কবিতার এই কথা যেন এদেশের গৃহপ্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে ব্যাপক নিসর্গে ধ্বনিত হয়েছে উদাত্ত উচ্চারণে।

একাত্তরের মার্চে যুদ্ধের দাবানল জ্বলে ওঠার লগ্ন থেকে ডিসেম্বরের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রক্তের যে ইতিহাস এদেশের মাটির বুকে লিপিবদ্ধ হয়েছে, সেই ইতিহাসের কতোটুকু অংশ জুড়ে আছেন এদেশের মেয়েরা, তার হিসেব রাখেনি কেউ। ত্রিশ লক্ষ শহীদের মা বোন আর স্ত্রীদের আত্মত্যাগের কথা বাদ দিয়েও প্রশ্ন আসে যুক্তিযুদ্ধে হানাদার বাহিনীর গুলীতে বহু নারী প্রাণ দিয়েছেন, পাক আর্মির হাতে নির্যাতিত হয়েছেন, সতীত্ব হারিয়েছেন এবং পরিশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন এমন নারীর সংখ্যা কতো? মেয়েদের ব্যাপারে যাবতীয় ঔদাসীন্যের মতো এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়েও খুব বেশি কথাবার্তা হয়নি, লেখালেখিও নয়।

মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ নিয়েছিলেন এবং যুদ্ধ শিবিরে সেবিকার কাজ করেছিলেন যেসব মেয়েরা তাদের কথা তুলে ধরার সময় বহুদিন আগ্ইে অতিক্রান্ত হয়েছে। আমার মনে হয় যেমন করে সচেতন মহিলারা বুঝে গেছেন যে নিজেদের কথা নিজেদেরই বলতে হয়, নিজেদের দাবি নিয়ে নিজেরা সোচ্চার না হলে কখনই সেই দাবি আদায় হয় না, তেমনি করে যেসব মহিলা লিখছেন তাঁরা অনুগ্রহ করে এগিয়ে আসুন। স্বাধীনতা যুদ্ধে মেয়েদের আত্মত্যাগ ও আত্মবলিদানের কথা লিখুন এবং তুলে ধরুন।

মার্চের এই রৌদ্র ঝলসিত দিনগুলোতে আমার দু’টি প্রদীপ্ত নারীমুখ বড় বেশি করে মনে পড়ে। একজন সেলিনা পারভীন যাকে আমরা ডাকতাম মনি আপা বলে। অন্যজন আমার প্রিয় বন্ধু কবি মেহেরুন্নেসা। স্বাধীনতা আন্দোলনে আর মুক্তিযুদ্ধে এদের আত্মত্যাগ, এদের নির্মম মৃত্যুর কথা স্মরণ করে বেদনাক্ত যন্ত্রণায় আজও বুঝি চৈত্রের রৌদ্রজ্বালা আকাশ আগুনের অশ্রু ঝরায়।

মনি আপার কথা মনে পড়ে। মনি আপাকে দিনের পর দিন দেখেছি পথে, মিছিলে, পত্রিকা অফিসে। দেখেছি সেলিনা পারভীন নামে কবিতা লিখতে, ‘শিলালিপি’ নামের একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতে। তখন কি জানতাম মনি আপা একদিন এই বাংলার রক্তাক্ত প্রান্তরে হারিয়ে যাবেন? জানতাম কি সেই তপ্তকাঞ্চন বর্ণ, স্বাস্থ্যে উজ্জ্বল, বিশাল দু’চোখে আত্মপ্রত্যয় নিয়ে মনি আপাকে একদিন পশ্চিমা ঘাতকের হাতে প্রাণ দিতে হবে? তাঁর বিকৃত লাশের ছবি আমাদের দু’চোখ মেলে দেখতে হবে?

মনি আপা লিখতেন। সেলিনা পারভীন এই নামে তাঁর কবিতা এবং ফিচার ছাপা হতো বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। সেসব রচনা হয়তো বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। সেসব রচনা হয়তো খুব কিছু উচ্চমানের ছিলো না, কিন্তু সাহিত্য-প্রীতি ছিলো তাঁর অপরিসীম। সাহিত্য আর সাংবাদিকতার পরিবেশ তিনি ভালোবাসতেন। পত্রিকা অফিসের কাগজের গন্ধ, লেখক-সম্পাদকদের কথাবার্তা, আড্ডা, জটলা এই সবকিছুই ছিলো তাঁর প্রিয়।

জীবন সংগ্রামে অক্লান্ত সৈনিক মনি আপা ছিলেন সংকল্পে ও আদর্শে অনমনীয়। স্বামীর সঙ্গে তাঁর আদর্শের সংঘাত ঘটেছিলো বলে একমাত্র শিশুপুত্রকে নিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলেন দাম্পত্য বন্ধনের অপমান থেকে। এজন্য বহু অপবাদ তাঁকে সইতে হয়েছে। তাঁর রূপলাবণ্য এবং বয়স এই কলংককে পল্লবিত করতে সাহায্য করেছিলো আরও বেশি। অটল ধৈর্যের সাথে মনি আপা সমস্ত প্রতিকূলকে মোকাবেলা করেছেন। কলংকের সমস্ত বিষয় গলায় ধারণ করে নীলকণ্ঠী হয়েছিলেন সেলিনা পারভীন।

মনি আপা দেশকে ভালোবাসতেন বলে প্রয়োজনে যে কোনো ঝুঁকি নেবার সাহসও তাঁর ছিলো। আজও হয়তো অনেকে জানেন না যে, একসময়ের প্রখ্যাত কমিউনিষ্ট নেতা নেপাল নাগ দীর্ঘদিন মনি আপার বাসাতেই আত্মগোপন করে থেকেছিলেন, বামপন্থী দলের কর্মীদের বহু গোপন বৈঠক তাঁর বাসাতেই হয়েছে একসময়ে। সে সময়ও মনি আপাকে অনেকে নানারকমভাবে সন্দেহ করতে ছাড়েনি। মনি আপার একটি মহৎ দোষ ছিলো। তা হচ্ছে তিনি মানুষকে বিশ্বাস করতে ভালোবাসতেন। আর এই বিশ্বাসেই ধরে নিয়েছিলেন বাঙালি মাত্রেই চায় পশ্চিমা সরকারের পতন হোক, স্বাধীনতা আসুক।

একাত্তরের সেই ভয়াবহ দিনগুলোতে পত্র-পত্রিকার অফিসে বসে নিশ্চিন্ত বিশ্বাসে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে তাঁর যোগাযোগের গল্প করতেন, মুক্তিসেনারা যে প্রায়ই তাঁর বাসায় আসে এবং তিনি তাঁদের নানাভাবে সহায়তা করেন একথাও গোপন রাখার প্রয়োজন বোধ করতেন না। তিনি অনুমানও করতে পারেননি যে পত্রিকা অফিসের বাঙালি কর্মচারীদের মধ্যেও নখ দাঁত লুকিয়ে ঘাপটি দিয়ে আছে ঘৃণ্য আলবদর আর আলশামস বাহিনীর লোক। স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষলগ্নে সেই নরপিশাচেরাই মনি আপাকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছিলো। তাঁর শূন্য গৃহে একাকী তখন তাঁর শিশুপুত্রটি মা-মা বলে চীৎকার করে কাঁদছিলো।

এরপর দেড়যুগ অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। মনি আপার সেই সন্তান এখন কোথায়, কিভাবে তার জীবন গড়ে উঠেছে, কে তাকে আশ্রয় দিয়েছে এসব কোনো খবরই আমরা রাখিনি, রাখার প্রয়োজনও বোধ হয় অনুভব করিনি।

সেলিনা পারভীনকে আমরা ঠকিয়েছি, মানুষ হয়ে ওঠার ন্যূনতম অধিকার থেকেও বঞ্চিত করেছি তাঁর সন্তানকে। কিন্তু আমরা কতো সময়ই কতো ভালো কিছু করার কথা ভাবি। এমনও তো ভাবা উচিত ছিলো সেলিনা পারভীনের ছড়ানো ছিটানো কবিতাগুলোকে সংগ্রহ করে একটা কবিতার বই বের করা যায় কিনা? তাঁর জীবন ও কাব্যপ্রতিভার বিষয় নিয়ে বছরের অন্তত একটি ঘণ্টাও আলোচনা করা যায় কি না? অথবা যায় কিনা কখনও কোনো অনুষ্ঠানে তাঁর কবিতা পাঠ করা? সত্যিই কি আমরা এতোটাই আত্মবিস্মৃত এবং আত্মসর্বস্ব জাত?

হয়তো তাই। তা নইলে কবি মেরেুন্নেসার কবিতাগুলো নিয়ে আজও কোনো কবিতাসমগ্র বের করতে এগিয়ে এলো না কোনো প্রতিষ্ঠান, কোনো প্রকাশনা? অথচ মেহেরুন্নেসা তো ছিলো বাংলাদেশের মহিলা কবিদের প্রথম সারিতেই। মেহেরুন্নেসা এখন একটি বিস্মৃত নাম, একটি অবহেলিত প্রতিভা।

কিন্তু আমি বলবো, মেহেরুন্নেসা একটি সংগ্রামী নাম। মেহেরুন্নেসা একটি বিমুগ্ধ চেতনা। দেড়যুগ আগে আপনারা যারা কবিতা পড়তেন, অথবা শুধুই অলস হাতে পত্র-পত্রিকার পাতা উল্টাতেন তারা নিশ্চয়ই একাধিকবার দেখেছেন ঐ নামটি, যে নামটি একটি সংগ্রামী নাম।

মেহেরুন্নেসার জীবনই ছিলো সংগ্রামের নামান্তর। পনেরো-ষোল বছর বয়সে মেয়েরা যখন স্কুলের শেষ বছরের ছাত্রী হয়ে ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্ন দেখে সেই বয়সেই মেহেরুন্নেসাকে আর্থিক অনটনের চাপে স্কুলের পড়া ছেড়ে জীবন সংগ্রামে নামতে হয়েছিলো।

উপার্জনে অক্ষম রুগ্ন বাবা, অসহায় মা আর অপদার্থ দু’টি ভাই নিয়ে ছিলো মেহেরুন্নেসার জীবন। জীবন সংগ্রামের হাতিয়ার হিসেবে প্রথমটায় ও লেখালেখিকেই বেছে নিয়েছিলো। যে হাত দিয়ে ওর শুধু কবিতার ফুল ছড়ানোর কথা সেই হাতকে করে তুলেছিলো যুদ্ধের নিশান। ষাট সালে প্রথমদিকে ওকে দেখেছি বাংলা একাডেমীতে কপির কাজ করতে, দেখেছি একসাথে দু’টো পত্রিকা অফিসে প্রুফ দেখতে, ফিচার লিখতে, আবার কবিতাও লিখতে। অবিশ্রান্ত কাজ করেও ওর মুখে লেগে রইতো শিশুর মতো সরল হাসি, অকারণ আনন্দে হয়ে রইতো উচ্ছল। কিন্তু এইসব কাজ থেকে পয়সা আসতো কম, কবিতা লেখার জন্য তো বলতে গেলে কিছুই পেতো না। ভাই দু’টো বড় হচ্ছিলো কিন্তু উপার্জন করতো না, বাবার অসুস্থতাও বাড়ছিলো দিন দিন। অতএব যুদ্ধ ক্ষেত্র বদলাতে হলো মেহেরুন্নেসাকে।

রেডিও তৈরির কারখানাতে শ্রমিকের চাকরি নিলো কবি মেহেরুন্নেসা। কবিতার প্রাণ তখন যন্ত্রের চাকায় ঘুরে ঘুরে পিষ্ট হতে লাগলো। মেহেরুন্নেসাকে তখন আর কোনো সাহিত্যের আসরে দেখা যেতো না, কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও না। তবে খবর জেনেছিলাম ওর বাবা মারা গেছেন ক্যান্সারে। বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে মেহেরুন্নেসা তখন নিঃস্ব প্রায়।

ষাটের দশকের শেষদিকে বাংলাদেশের কবিতার ক্ষেত্রে যেন একটা প্রাণের জোয়ার লেগেছিলো। বেতার, টেলিভিশন এবং নানা অনুষ্ঠানের তখন কবিতা পড়া হতো। কিন্তু সেসব জায়গাতে মেহেরুন্নেসাকে কখনও ডাকা হতো না। টেলিভিশনে এমন মহিলারা অনেকেই কবিতা পড়ার আমন্ত্রণ পেতেন যারা বিত্তে বৈভবে অথবা স্বামী কিংবা পিতার পদমর্যাদার জন্য যতোটা ঠিক ততোটা কবিতা রচনায় নন। কিন্তু মেহেরুন্নেসার খবর করবে কে? তার তো কোনো ব্যাকিং ছিলো না, ছিলো না ঝক ঝকে কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড। অভাবী মানুষকে কেই বা চায় সুন্দর সুসজ্জিত আসরে দেখতে? কিন্তু সংগ্রাম যার জীবনের ব্রত তাকে ঠেকিয়ে রাখবে কে যখন দেশটাই হয়ে দাঁড়ালো সংগ্রামের বিরাট ক্ষেত্র? ঊনসত্তরের গণআন্দোলন, সত্তরের বিক্ষুব্ধ প্রাণ বন্যা আর একাত্তরের অসহযোগে সক্রিয় অংশ নিতে ছুটে এসেছিলো মেহেরুন্নেসা। মনে পড়ে ঊনসত্তরের একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাতে বাংলা একাডেমীর মঞ্চে শাসকপ্রভু আইয়ুব খানের প্রতি মেহেরুন্নেসার কবিতার সেই তীব্র জিজ্ঞাসা। একটি তীক্ষ্ণধার বর্শার ফলা যেন আইয়ুবশাহীর নিরেট ভিত্তিকে চিরে-চিরে দেখতে চাইছিলো সেদিন।

একাত্তরের অসহযোগের দিনগুলোতে সংগ্রামী মেহেরুন্নেসার সঠিক পরিচয় বোধহয় জেনে গিয়েছিলো ওর মীরপুরের অবাঙালী প্রতিবেশীরা। ওরা সুযোগের সন্ধানে ছিলো। যে মুহূর্তে হানাদার বাহিনী এ দেশের জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে, ঠিক তখনি অবাঙালি প্রতিবেশীরা আক্রমণ চালিয়েছে মেহেরুন্নেসাদের পরিবারের ওপর। বৃদ্ধ মাকে বেঁধে রেখে তাঁরই চোখের সামনে ছুরি দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করেছে তাঁর কুসুমপ্রতিম কন্যা মেহেরুন্নেসা আর দুই ছেলেকে। সন্তানের দুবির্ষহ হত্যাষজ্ঞকে প্রত্যক্ষ করে শুধু আকাশ ফাটিয়ে আর্তনাদ করতে করতে একসময় প্রাণ হারিয়েছিলেন হতভাগী মা।

মেহেরুন্নেসা নেই। কিন্তু অজস্র শিউলি ফুলের মতো, অসংখ্য অগ্নিস্ফুলিংগের মতো ছড়িয়ে আছে তার কবিতা। সেই কবিতার মূল্যায়ন করে শহীদ কবি মেহেরুন্নেসাকে প্রকৃত মর্যাদা দেবার সময় কি আমাদের কোনোদিনও হবে না?

মেহেরুন্নেসা নেই একথা বার বার উচ্চারণ করেও মনে হয় সে আছে, সে থাকবে। আমি জানি সে ভোলে না, ভুলতে দেয় না। এই বাংলার আকাশে মেহেরুন্নেসার চোখের নীল, পাখির কণ্ঠে মেহেরুন্নেসার কবিতার অস্ফুট গুঞ্জন, শ্রাবণের বাদল ধারায় তার সজল আনাগোনা। তার আসা-যাওয়া বার-বার। মেহেরুন্নেসার কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ক্ষমা করো মেহেরুন্নেসা। এই দেশের অকৃতজ্ঞ মানুষকে তুমি ক্ষমা করো।

শুধু তো সেলিনা পারভীন আর মেহেরুন্নেসার কথাতেই শেষ নয়, শেষ হবার নয়। স্বাধীনতা আসবে বলে, স্বাধীনতা এসেছে বলে আত্মত্যাগ করেছে যে অজ্ঞাত রমণীরা তাদের কথা ধ্বনিত হয়েছে বিবেকবান কবির কবিতায়, যে কবিতা আজ কিংবদন্তীর সমতুল্যঃ
তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,
সকিনা বিবির কপাল ভাঙলো,
সিঁথির সিঁদুর মুছে গেলো হরিদাসীর।