শুক্রবার,২০ অক্টোবর ২০১৭
হোম / জীবনযাপন / যত্নে থাকুক আপনার নতুন শিশুটি
১০/০৫/২০১৭

যত্নে থাকুক আপনার নতুন শিশুটি

-

পরিবারের নতুন শিশুটিকে ঘিরে মা-বাবার উৎসাহ-আনন্দের সীমা থাকে না। শিশুটি মেয়ে হবে না ছেলে, তার নাম কি রাখা হবে, সে দেখতে কার মতো হবে- আরও কত কি। শত আনন্দের পাশাপাশি দুশ্চিন্তারও কিন্তু অন্ত থাকে না। একটি শিশুর দৈনিক যত্ন কিংবা খাওয়া ও ঘুম কোনো কিছুর ব্যাপারেই পূর্ব কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় নানা রকম সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় বেশিরভাগ নতুন মা-বাবাকেই। কিছু পূর্ব পরিকল্পনা ও সহজ কিছু উপায়ে নতুন মা-বাবা হওয়ার আনন্দটাকে স্বর্গীয় করে তোলা সম্ভব।

পরিবারের সাহায্য নিন
সন্তান সামলানোর বেশিরভাগ ঝক্কিটাই এসে পড়ে মায়ের ওপর। এটা খুবই স্বাভাবিক যে, আপনি অনেক কিছুই জানবেন না সন্তান লালান-পালনের ব্যাপারে। সংকোচ না করে বাড়ির অভিজ্ঞ আত্মীয়দের সাহায্য নিন। এতে তারা বিরক্ত না হয়ে বরং আপনাকে সাহায্য করতে পেরে খুশিই হবেন। খুবই ভালো হয় যদি এই সময় আপনার বা আপনার সঙ্গীর মা আপনাদের সঙ্গে থাকেন। এতে আপনার দুশ্চিন্তা যেমন কমবে তেমনি পাশাপাশি আপনি নিজেরও খানিকটা যত্ন নেওয়ার সময় পাবেন।

ডাক্তারের পরামর্শ মতো চলুন
প্রথম সন্তান হলে আত্মীয়-স্বজনদের উপদেশ বা পরামর্শের অন্ত থাকে না। কিভাবে খাওয়াবেন, কিভাবে গোসল করাবেন, অসুস্থ হলে কি করবেন এমন আরও অনেক কিছু। সব পরামর্শই শুনুন কিন্তু আপনার শিশুর ওপর যে কোনো কিছু প্রয়োগ করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। প্রতিটি শিশু একে অন্যের চেয়ে আলাদা। তাই অন্য কোনো শিশুর জন্য যে খাবারটি স্বাস্থ্যকর তা আপনার শিশুর জন্য অসুস্থতার কারণও হতে পারে।

কাজ ভাগ করে নিন
সন্তান শুধু আপনার একার না তাই দায়িত্বটাও দুজনের সমান হওয়া উচিত। সন্তান দেখাশোনার দায়িত্ব দুজন মিলে ভাগ করে নিন। সন্তানকে খাওয়ানো কিংবা তার ডায়পার বদলে দেওয়ার মতো কাজগুলো যদি দুজন মিলে করেন তবে কারও একার ওপর বেশি চাপ পড়বে না। প্রথম সন্তান হওয়ার পর দেখা যায় স্বামী-স্ত্রী একে অন্যকে সময় দিতে পারছেন না। দুজন মিলে কাজ করলে নিজের জন্য পাশাপাশি একে অন্যের জন্যও সময় পাবেন।

সময় দিন
নতুন যে কোনো কিছু শেখার সময় মানুষ ভুল করে এটাই স্বাভাবিক। আর ভুলগুলো থেকেই শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে চলতে হয়। সন্তান লালন-পালন করার ব্যাপারটাও এমনি। প্রথম সময় কিছু কিছু ভুল হবে, হয়ত বুঝে উঠতে পারবেন না আপনার ছোট্ট সোনামণি কি চাইছে বা তার কি সমস্যা হচ্ছে। তাই নিজেকে সময় দিন, ধীরে ধীরে আপনি সহজেই আপনার সন্তানের চাহিদাগুলো বুঝে উঠতে পারবেন।

শিশুর ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করুন
যে কোনো বাবা-মা-ই চাইবে তার শিশুটির ভবিষ্যতে যেন সুন্দর হয়। আর তাই সব বাবা-মায়ের ইচ্ছা থাকে সন্তানকে ভালো কোনো জায়গায় লেখাপড়া করানোর। ছোট বয়সে শিশুটির খরচ সীমিত থাকলেও শিশুটির বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খরচটা বাড়তে থাকে। তাই প্রথম থেকেই আপনার আদরের সন্তানের জন্য একটু বাড়তি সঞ্চয় করুন। এতে আপনাকে শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে থাকতে হবে না।

- রাজিয়া সুলতানা