শুক্রবার,২০ অক্টোবর ২০১৭
হোম / ফ্যাশন / শারদীয় সাজে অপরূপা
০৯/২৭/২০১৭

শারদীয় সাজে অপরূপা

-

দুর্গাপূজা বাঙালির কাছে সার্বজনীন উৎসব। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বাঙালির এক মহামিলনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে দুর্গাপূজার মন্ডপগুলো। আর উৎসব মানেই নতুন পোশাকের আনন্দ! সঙ্গে মানানসই সাজ।

রূপে দুর্গার প্রতিনিধিত্ব করতে পারে এমন তুলনা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। মোটা টানা টানা কাজল, লাল টুকটুকে ঠোঁট, মাথায় আধখানা চাঁদ, মুখ পূর্ণচন্দ্রের মতো - দুর্গার এ রূপ এক মোহময় রূপ। এই সাজ যেন শাশ্বত ও চিরচেনা। সবসময়ের সাজের চেয়ে একটু যেন ভিন্ন হয় পূজার সাজ। পূজার আমেজ ধরা পড়ে সাজে। পূজার সাজ হতে পারে দুই রকম। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে সাজা হয় নিজের পছন্দমতো। অন্য সময়ে যেমন পোশাকে, যেভাবে সাজা হয় সে রকমই চলে এ কয়েক দিন। কিন্তু দশমীর দিনটার কথা আলাদা। এদিন সবাই চায় পূজার আমেজে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে।

দশমীর দিন যে শাড়িটা পরা হয় তার পাড়টা হতে পারে বাহারি। জমিন সাদা বা লাল রঙের হতে পারে। শাড়িতে এবার পাড়ে লেইস, আলগা পাড়, ব্লক, চুমকি দিয়ে কাজ করা থাকতে পারে। পূজার শাড়িতে চুমকির কাজটা বেশ ভালো লাগে। লাল-সাদা ঢাকাই জামদানি পূজার দিনে পরলে চমৎকার দেখায়। এছাড়া লালপেড়ে গরদের আবেদন চিরন্তন। মসলিন বা সিল্কের শাড়িও পরা যেতে পারে। শাড়িতে কম কাজ থাকলেও ব্লাউজটা হতে পারে গর্জিয়াস।

এবার ফ্যাশন হাউসগুলো পূজা উপলক্ষে তাদের কালেকশন সাজিয়েছে বর্ণিলভাবে। ত্রিশূল, দেব-দেবীর অবয়ব, ওম লেখাসহ বিভিন্ন পূজার মোটিভ শোভা পাচ্ছে পোশাকের ক্যানভাসে, রঙেও আছে বৈচিত্র্য। লাল, কমলা, হলুদ, সাদা, বেগুনি, ম্যাজেন্টা, গোলাপি রংগুলো দেখা যাচ্ছে বেশ। ফ্যাশন হাউসগুলো নান্দনিক ডিজাইনের পূজার পোশাক দিয়ে সাজিয়েছে তাদের আউটলেট। আপনি পূজার দিনের জন্য পছন্দের পোশাক কিনতে যেতে পারেন আড়ং, অঞ্জন’স, কে ত্র্যুাফট, রঙ বাংলাদেশ, বিশ্বরঙ, বিবিয়ানা, নগরদোলাসহ দেশীয় অন্যান্য ফ্যাশন হাউসগুলোতে।

পূজার সাজে লম্বা হাতার, কুঁচি দেওয়া ব্লাউজ পরলে ভালো দেখাবে। ঘটিহাতাও চমৎকার লাগবে। এর সঙ্গে গয়নাটাও হওয়া চাই মানানসই। সোনার গয়না এখন তেমন পরা হয় না। এর বদলে অ্যান্টিক ধাঁচের গয়না ভালোই দেখাবে। দুই হাত ভরে পরা যায় কাচের চুড়ি। পূজার সাজের সঙ্গে চুলে তাজা ফুল থাকা চাই-ই। খোলা চুলে কানের পাশে গুঁজে দিতে পারেন যেকোনো তাজা ফুল। আর খোঁপায়ও তাজা ফুলের মালা জড়িয়ে নিতে পারেন। মন্ডপে মন্ডপে লালপেড়ে গরদের শাড়ি আর সাদা ধুতি-পাঞ্জাবিই আবহমান বাংলার দুর্গাপূজার পোশাকের বৈশিষ্ট্য। তা সে জমিদার বাড়ির পূজাই হোক বা বারোয়ারি। অনেক সময় গরদের শাড়ির পাশাপাশি তসর, তাঁতে বোনা সুতি শাড়ি আর এ বাংলায় যেমন জামদানি, তেমনি ও বাংলায় বালুচরিও দেখা গেছে। তবে অবশ্যই অফ হোয়াইটের সঙ্গে লাল।

দুর্গোৎসবের মূল আনন্দ হচ্ছে মন্দিরে মন্দিরে গিয়ে দেবী দর্শন ও পূজার আচার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ। সকালে পূজা দেখতে যাওয়ার সময় সুতি শাড়ি বেছে নিলেই ভাল। কারণ দিনের বেলা মন্দিরে পূজার অঞ্জলি দেওয়ার সময় শুভ্র ও স্নিগ্ধ ভাবটা যাতে থাকে সেদিকে নজর দেয়া উচিৎ। চুলটা ভালো করে পোশাকের ধাঁচের সাথে মিলিয়ে বেঁধে নিন, যাতে বাড়তি ঝামেলা পোহাতে না হয়। পূজায় চুল বাঁধলে দেখতেও বেশ ভালো লাগে। খোঁপা করলে খোঁপায় গুজতে পারেন ফুল কিংবা বেণী করে চুল বাঁধলেও পছন্দ করে ফুল দিতে পারেন। বিবাহিতা হলে বড় করে কপালে লাল টিপ ও সিঁথিতে সিঁদুর দিন।

আর রাতে চাকচিক্যে ভরপুর পোশাক পরতেই পারেন। সেক্ষেত্রে সিল্ক কিংবা টিস্যু শাড়ি হতে পারে আপনার পছন্দ। আবার শাড়ি সিম্পল রেখে ব্লাউজ সাজিয়ে নিতে পারেন নান্দনিকভাবে। ফুলহাতা নেটের ব্লাউজ, ঘটি হাতা, গলা ও হাতে অন্য রঙের কাপড়ে পাইপিং কিংবা ফ্রিল করা ব্লাউজ সাজে নিয়ে আসবে বৈচিত্র্য।

আনন্দের এ মুহূর্তগুলোকে স্বাচ্ছন্দ্যে উপভোগ করার জন্য তাই পোশাক নির্বাচন এবং সাজে স্বাচ্ছন্দ্য জরুরি।

- শারিদ বিন শফিক