বৃহস্পতিবার,২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭
হোম / খাবার-দাবার / দুনিয়াজুড়ে ঈদের প্রিয় ডিশ
০৮/৩১/২০১৭

দুনিয়াজুড়ে ঈদের প্রিয় ডিশ

-

কোরবানির ঈদ মানেই রসনা-বিলাসের মাহেন্দ্রক্ষণ। এই ঈদে আনন্দ-উৎসবের নিয়ম রীতি বৈশিষ্ট্য ঐতিহ্যভেদে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকমের। তা সত্ত্বেও খানাপিনায় বলতে গেলে প্রায় সবখানেই মাংসের ব্যবহারের প্রাধান্য রয়েছে। কোরবানির আমেজটুকু ধরে রেখে চলুন জেনে নিই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের কোরবানি ঈদের মজাদার সব খাবার সম্পর্কে।

‘ফাত্তাহ’-মিশরীয় ঐতিহ্য
'ফাত্তাহ' মিশরের ঐতিহ্যবাহী এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুস্বাদু একটি খাবার। গরু, খাসি অথবা ভেড়ার মাংসের সঙ্গে চাল, মচমচে রুটি এবং টমেটো সস সহযোগে এটি প্রস্তুত করা হয়। ঈদুল আজহায় মিশরের প্রায় প্রত্যেকটি পরিবারে ফাত্তাহ অন্যতম প্রধান ডিশ হিসেবে খাওয়া হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে ঈদের খাবার
ছাগলের দুধ থেকে তৈরি ‘জামীদ’ নামের এক ধরনের শুকনো দইয়ের সঙ্গে ভেড়ার মাংস দিয়ে বানানো ‘মানসাফ’ হচ্ছে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী একটি ডিশ। এই আইটেমটি বড় একটি থালায় গমের রুটির উপর ভাত, ভেড়ার মাংস ও পাইন নাট সহযোগে সাজিয়ে পরিবেশন করা হয়। এই ‘বড় থালা’ ব্যাপারটা থেকেই এসেছে ‘মানসাফ’ নামটি। এটি লেবাননের জাতীয় খাবার। এছাড়াও ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইরাক, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও বেশ জনপ্রিয় ‘মানসাফ’।

জনপ্রিয় উত্তর আফ্রিকান ডিশ-‘তেজিন’
উত্তর আফ্রিকার মরক্কো থেকে তিউনিসিয়া পর্যন্ত সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে ‘তেজিন’। ভেড়া অথবা খাসির পায়ের মাংস বিভিন্ন ধরনের মশলা সহযোগে মাখিয়ে এক ধরনের চোঙাকৃতির ঢাকনাযুক্ত মাটির পাত্রে (তেজিন) রেখে অল্প তাপে ধীরে ধীরে ‘তেজিন’ রান্না করা হয়। পরে তা রান্না করা সবজি, মটরশুঁটি এবং কুসকুস নামে এক ধরনের গমের গুটি সহযোগে পরিবেশন করা হয়।

বিখ্যাত সৌদি খাবার
সৌদি আরবে ঈদুল আজহার সময় একটি বিখ্যাত খাবার হলো ‘খাবসা লাহম’। ভেড়া বা দুম্বার মাংস টমেটো, দারুচিনি, এলাচ, লেবু, পেঁয়াজ ইত্যাদি সহযোগে মুখবন্ধ পাত্রে রান্না করে তা সেদ্ধ চালের সঙ্গে মিশিয়ে মাংস ও ভাতের সংমিশ্রণে খাবসাত তৈরি করা হয়। অনেক জায়গায় পরিবেশনের সময় আমন্ড ও পাইন নাট ব্যবহারের রীতিও রয়েছে। এটি সৌদি আরব ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য, উপমহাদেশ এমনকি ইদানীং আমাদের দেশেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

সুস্বাদু তুর্কি ডিশ - ‘হাংকারবেগেন্দি’
‘হাংকারবেগেন্দি’ অথবা শুধু ‘বেগেন্দি’ অটোমান রন্ধনশৈলীর অন্যতম প্রধান একটি ডিশ। তুর্কি ভাষায় হাংকারবেগেন্দির শাব্দিক অর্থ হলো ‘সুলতান এটি পছন্দ করেছেন’। স্মোকড বেগুনের সঙ্গে মশলা মিশিয়ে এবং তা ভালোমতো ঝলসিয়ে ভর্তা করা হয়। তারপর সেটি দুধ, ঘি এবং ভাজা ময়দা সহযোগে একসঙ্গে ভালোমত ঘেঁটে একটি মিশ্রণ তৈরি করে তা ভেড়া অথবা খাসির ভাজা মাংসের উপর ছড়িয়ে পরিবেশন করা হয়। ঈদের মত বিশেষ উৎসবগুলোতে ‘হাংকারবেগেন্দি’ তুরস্কের জনগণের অত্যন্ত প্রিয় একটি খাবার।

অন্যান্য
ইয়েমেনে ঈদুল আজহার দিন ভেড়ার কিডনি দিয়ে এক প্রকার খাবার তৈরি করা হয়, যা তারা ঈদের দিন সকালে সবাই নাস্তায় খেয়ে থাকে। এরকমই কিডনি দিয়ে তৈরি করা আর একটি বিখ্যাত খাবার হচ্ছে ‘বোউলজেলফ’। এটি মরক্কোর অন্যতম জনপ্রিয় ঈদের খাবার।

মাংস, কিডনি, ফুসফুস সবই তো গেল। তাহলে মাথা বাদ যাবে কেন? খাসি, ভেড়া বা গরুর মাথা দিয়েই তৈরি ‘বোউজেলফ' আলজেরিয়ানদের অন্যতম প্রিয় একটি ঈদের খাবার। কিছু সুগন্ধি এবং রন্ধন উপযোগী তৃণ-গুল্ম এবং মশলা একসঙ্গে সেদ্ধ করে সেই তরলের ভেতরে মাথার মাংস সেদ্ধ করে তার সঙ্গে আলু টমেটো এবং পেঁয়াজের সস মিশিয়ে বেক করে এটি রান্না করা হয়।

প্রিয় পাঠক, এখনি প্রস্তুত হয়ে যান আসন্ন ঈদে এসব ডিশ থেকে কোন একটি বেছে নিয়ে তা প্রস্তুত করে চেখে দেখার জন্যে। এই ঈদে রসনা-বিলাসে বিদেশি ডিশগুলো যে অন্য মাত্রা যোগ করবে, তা বলাই বাহুল্য।

- শারিদ বিন শফিক