বৃহস্পতিবার,২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭
হোম / ফিচার / ঈদ উৎসব দেশে দেশে
০৮/৩১/২০১৭

ঈদ উৎসব দেশে দেশে

-

কয়েকদিন পরেই কোরবানির ঈদ। স্থান-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বজুড়ে এই উপলক্ষের রয়েছে আলাদা আবেদন যার অনেকটাই ঈদের মুখরোচক খাওয়া-দাওয়া ও আকর্ষণীয় রীতিকে ঘিরে। এই ঈদে দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষগুলো কীভাবে উদ্যাপন করবেন তা জানার কৌতূহল থাকতেই পারে। তাই চলুন জেনে নিই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কোরবানির ঈদ উদযাপনের রীতি-নীতি সম্পর্কে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
প্রথমেই আসা যাক, আমাদের আশপাশের দেশগুলো সম্পর্কে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশে ঈদ উদযাপন বা খাওয়া-দাওয়ার আয়োজনে মোটা দাগে তেমন পার্থক্য ধরা পড়ে না। তবে ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালেশিয়া কিঙ্গা সিঙ্গাপুরে কোরবানির ঈদ উদ্যাপনে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। এই যেমন কোরবানির পশুর মাংস ছাড়াও ব্যাম্বু কুকড রাইস (লেমাং নামে পরিচিত), বিভিন্ন ধরনের মিট কারি, ডাম্পলিং এবং ডডল নামের এক ধরনের মিষ্টান্ন এসব অঞ্চলে ঈদ আয়োজনের অন্যতম প্রধান খাদ্য।

মিশর
কোরবানি ঈদ পালনে মিশরীয়দের জুড়ি মেলা ভার। এই ঈদকে সামনে রেখে চারদিন ধরে উৎসব চলে মিশরে। এই উৎসব উদ্যাপনের মধ্যে মিশরের সমৃদ্ধ অতীত ও সভ্যতার ছাপ পাওয়া যায়। বলার অপেক্ষা রাখে না সুস্বাদু সব খাবার ঘিরেই এই মহাআয়োজন সাজানো হয়। ঈদের সময় বাছাই করা মাছ, বিভিন্ন মাছের রেসিপি মিশরের প্রায় প্রতিটি পরিবারের ডাইনিং টেবিলে শোভা পায়। ফাতা নামের একটি বিশেষ পদও এই ঈদে খাবারের মূল আকর্ষণ। ভাত, মাংস, পেঁয়াজ এবং ভিনেগার একসঙ্গে ব্লেন্ড করে এই খাবারটি তৈরি করা হয়। এছাড়া কাহক্ নামের বিশেষ কুকি ঈদ আয়োজনে মিশরীয়দের অন্যতম প্রিয় খাবার। এ তো গেল খাবারের কথা। বাংলাদেশের মতো মিশরেও ঈদের দিনে ঈদি আদায়ের কালচার রয়েছে। কোরবানির পশুর মাংসের সঙ্গে উপরে বর্ণিত পদগুলো দিয়ে মহাভোজ সেরে ঘোরাঘুরিতে ব্যস্ত হয়ে পরে মিশরীয়রা। এক্ষেত্রে পার্ক, সিনেমা হলÑ থিয়েটারের পাশাপাশি মিশরীয়দের অন্যতম ভ্রমণ স্থান নীলনদ এবং দৃষ্টিনন্দন শার্ম এল শেখ শহর। মিশরের সিনাই উপত্যকায় লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত এই পর্যটন নগরী ঈদের সময়টায় ঘোরাঘুরি করার জন্য মিশরীয়দের অন্যতম পছন্দের স্থান।

তুরস্ক
ইউরোপের মুসলিমঅধ্যুষিত দেশ তুরস্কে কোরবানির ঈদ অনেক বৈচিত্র্যময়। তুরস্কে বিভিন্ন দেশের মানুষদের সমাগম বা স্থায়ী বসবাস বলে ঈদের দিনে পোশাক-আশাকে ব্যাপক ভিন্নতা চোখে পড়ে। নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই শেষে ঘোরাঘুরি ও খাওয়া-দাওয়ায় বেশ আমোদে ঈদের দিনগুলো পার করে দেশের মানুষেরা। ঈদের দিনটিকে সামনে রেখে তুর্কি নারীরা মিষ্টিজাতীয় খাবার যেমন ক্যান্ডি, পুডিং, কেক প্রস্তুত করে। এর সঙ্গে থাকে বাকালাভা নামক পেস্ট্রি জাতীয় খাবার, এক কথায় জগদ্বিখ্যাত। এই দিনে তুরস্কের ‘ব্লু মস্ক’সহ অন্যান্য মসজিদে বিশেষ আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। দিনটি উদ্যাপনের জন্য দেশজুড়ে কনসার্ট, ছায়া নাটক এবং কিছু কিছু স্থানে কুস্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

কাতার
কাতারে ঈদের দিন প্রথম সকালে বুলালিত (সিদ্ধ ডিমে ঢাকা মিষ্টি নুডলস), মিষ্টি রুটি এবং অন্যান্য মিষ্টি জাতীয় খাবার দিয়ে বিশেষ নাশতা তৈরি করা হয়। তারপর কোরবানি শেষ করে দারুচিনি দেয়া কফি, গোলাপজলের সুবাসযুক্ত চা, বাকলাভা, ফল আর অন্যান্য মিষ্টি পরিবেশনের চল দেখা যায়। দুপুরের খাবারে ভাত ও কোরবানির মাংস হিসেবে গরু-ছাগলের পাশাপাশি ভেড়ার মাংসের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। এই দিনে রাজধানী দোহায় বিভিন্ন স্থানে তলোয়ার যুদ্ধ ও ঢোল বাজানোর মাধ্যমে বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়।

- নাইব রিদোয়ান