শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / বিনোদন / নারী সুপারহিরো ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’
০৮/০৯/২০১৭

নারী সুপারহিরো ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’

-

ডিসি কমিক্সের ইউনিভার্সে ওয়ান্ডার ওম্যান খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্র। ডিসি-এর সিনেমাটিক ইউনিভার্সে তার আগমন ঘটে বক্স অফিস কাঁপানো ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যানঃ ডওন অফ জাস্টিস’ মুভির মধ্য দিয়ে। এই ইউনিভার্সের পৃথিবীতে তার আগমনের ঘটনা (অরিজিন স্টোরি) দেখানো হয় মুভিটিতে।

নারী সুপার পাওয়ার সমৃদ্ধ চরিত্রের নিজস্ব ছবি হলিউডে সচরাচর দেখা যায় না। ডিসি-এর প্রতিদ্বন্দ্বী মার্ভেলের সিনেমাটিক ইউনিভার্সে এখনো কোনো নারী চরিত্রের স্বকীয় মুভি বানানো হয়নি। এদিক থেকে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে ডিসি তাদের এই শক্তিশালী নারী চরিত্রের একটি যথার্থ চিত্রায়ণ দেখাতে সক্ষম হয়েছে। ছবিটি মুক্তি পায় এ বছরের ২ জুনে।

শুরু থেকেই বিতর্কিত ডিসি কমিক্সের মুভি ইউনিভার্স। প্রতিদ্বন্দ্বী মার্ভেল যখন হলিউডে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে, তখন তড়িঘড়ি করে গড়ে তোলা ডিসির সিনেমাটিক ইউনিভার্স-এর মুভিগুলো সমালোচনার সম্মুখীন হয়। বক্স অফিসে মুভিগুলো সাফল্য পেলেও কোনোটিই সমালোচকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এর মাঝে ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’ মুভিটি যেন মরুভূমিতে এক পশলা বৃষ্টি। বক্স অফিস কাঁপানোর পাশাপাশি সমালোচকরা এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

১২৫ মিনিট ব্যাপ্তির ছবিটির পরিচালকও একজন নারী। প্যাটি জেঙ্কিন্স পরিচালিত ছবিটি বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে আয় করে ৭২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।

ওয়ান্ডার ওম্যান ছবির কাহিনি আবর্তিত হয় থেমিস্কিরা দ্বীপে বসবাসকারী অ্যামাজন সম্প্রদায়কে নিয়ে, যেখানে শুধু নারীদের বসবাস। দেবতা জিউসের আশীর্বাদে সেখানে নারীদের গর্ভে শুধুমাত্র কন্যা শিশুর জন্ম হয়। দ্বীপের প্রিন্সেস ডায়ানা। তার মা কখনো চায়নি যে তার মেয়ে যুদ্ধ করবে। কিন্তু ভেতরের যোদ্ধা মন কখনো দমিয়ে রাখতে পারেনি তাকে। বড় হবার সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে ওঠে সে। আর যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী হবার লক্ষ্য একটাই। যুদ্ধের দেবতা এরিসকে পরাজিত করা। পুত্র এরিস পিতা জিউসের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে আবার যুদ্ধ ঘোষণা দেয়। এরিসকে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে জিউস অ্যামাজন সম্প্রদায়কে প্রতিষ্ঠা করেন এবং একটি গোপন অস্ত্রের কথা বলে থাকেন। পৃথিবীর সকল মানুষ থেকে দূরে সেই বিচ্ছিন্ন দ্বীপে একদিন ঢুকে পড়ে মানুষ। আর তার থেকেই ডায়ানা শুনতে পায় পৃথিবীর যুদ্ধবিগ্রহ আর নিষ্পাপ মানুষের মৃত্যুর খবর। পৃথিবীর মানুষগুলোকে রক্ষা করতেই থেমিস্কিরা দ্বীপ থেকে বেরিয়ে পড়ে ডায়ানা। কিন্তু মানুষকে রক্ষা করতে গিয়ে যে কী চমক অপেক্ষা করে তার জন্য তা হয়তো ডায়ানা নিজেও কল্পনা করতে পারেননি।

ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন গ্যাল গ্যাডট। ডায়ানা চরিত্রে অভিনয় করা গ্যাল গ্যাডটের অভিনয় ছিল অপ্রত্যাশিতভাবে নজরকারা। ২০০৪ সালে মিস ইসরায়েল হয়ে মিস ইউনিভার্সে অংশগ্রহণকারী গ্যাডটের অভিনয় করার ক্ষমতা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিল। কিন্তু ২০ বছর বয়সেই সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া এই অভিনেত্রী প্রতিটি দৃশ্যে চরিত্রের রূপ যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। ছবিতে স্টিভ ট্রেভরের চরিত্রে অভিনয় করা ক্রিস পাইন সহ রবিন রাইট, ড্যানি হাস্টন প্রমুখ সকলের অভিনয় ছিল মনে গেঁথে থাকার মতো।

ছবির শিল্প নির্দেশনা, পোশাক – সাজসজ্জা, অ্যাকশন, এনিমেশন, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছিল যথার্থ। ডিসি-এর মুভিগুলোর ফিল্মিং এবং এডিটিং অতিরিক্ত ডার্ক করার বদনাম থাকলেও এ মুভিতে তা প্রকাশ পায়নি। রঙিন হাস্যমুখর মুভিটি ‘ওয়ান্ডার ওম্যানে’র প্রারম্ভিক সত্তাটাকে সুন্দরভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে ছবিটি। বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্স এবং যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাসটার সিনেমাতে থ্রিডিতে উপভোগ করতে পারবেন ছবিটি। তাই অপেক্ষা না করে আজই দেখে আসুন ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’।

- আলভী