বৃহস্পতিবার,২৪ অগাস্ট ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / চিকুনগুনিয়াতে কী করবেন?
০৮/০৫/২০১৭

চিকুনগুনিয়াতে কী করবেন?

-

গ্রীষ্মের তেজদীপ্ত সূর্যকে পোষ মানিয়ে প্রকৃতিতে এসেছে বর্ষা। তবে এই বর্ষায় বৃষ্টির পরশের সঙ্গে রোগের প্রকোপও কিন্তু বেড়ে গেছে। বাঙালির চিরপরিচিত ডেঙ্গুর সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন রোগ চিকুনগুনিয়া, যে রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে দিনদিন।

চিকুনগুনিয়া নিয়ে যা জানা দরকার
বর্ষায় প্রায় মহামারীরূপে দেখা দিয়েছে চিকুনগুনিয়া রোগ। এই ভাইরাস জ্বর ডেঙ্গুর মতো মশার মাধ্যমেই ছড়ায়। বারান্দার টব কিংবা বাসাবাড়ির ছাদে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। আর এই এডিস মশাই ডেঙ্গুর মতো চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের মূল বাহক। তবে ডেঙ্গুর সঙ্গে এর মূল পার্থক্য হলো এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ঘাড়-পিঠ-কোমরে তীব্র ব্যথা হয় এবং সোজা হয়ে দাঁড়াতে বেশ কষ্ট হয়। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে এরূপ ব্যথা চোখ, মাথা, মাংসপেশি ও হাড়েই বেশিরভাগ সময় সীমাবদ্ধ থাকে। তবে চিকুনগুনিয়ার ক্ষেত্রে ঘাড়-পিঠ-গিরাসহ শরীরের বিভিন্ন অস্থির সন্ধিস্থলে ব্যথা কিংবা বাঁকা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। আফ্রিকার আঞ্চলিক ভাষায় চিকুনগুনিয়া শব্দের অর্থই হচ্ছে বাঁকা হয়ে যাওয়া। এ-রোগের প্রকোপে রোগী অনেক সময় খুঁড়িয়ে হাঁটতে বাধ্য হন। শরীরে প্রচন্ড জ্বর থাকে এবং তা ১০৩-০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। এর সঙ্গে বমি, ডায়রিয়া, গা ব্যথা বা ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে। রোগী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সেরে উঠলেও ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়। তবে চিকুনগুনিয়ায় ডেঙ্গুর চেয়ে মৃত্যুঝুঁকি কম।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায়ও মিল রয়েছে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে চিকুনগুনিয়া শনাক্ত হলে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল পানীয় গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়। এক্ষেত্রে ডাবের পানি, স্যালাইন, লেবুর রস, লবণ-জল, স্যুপ জাতীয় তরল বেশি করে খেতে হবে। সমস্যা তীব্র না হলে বাড়িতেই পূর্ণাঙ্গ বিশ্রামে থাকতে হবে। তবে ডাক্তারের নির্দেশ ছাড়া কোনোরকম অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথানাশক সেবন করা যাবে না।

প্রতিকার
যেহেতু মশার মাধ্যমেই এই রোগ ছড়ায়, তাই এই মারাত্মক রোগ থেকে মুক্তি পেতে মশার প্রজনন বন্ধ করাই হবে জরুরি বিষয়। এক্ষেত্রে বাসার ফুলের টব থেকে শুরু করে আনাচেকানাচে জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে। এছাড়া জমে থাকা পানিতে কয়েক ফোঁটা কেরোসিন বা ফিনাইল ঢেলে মশা নিধন করা সম্ভব। এই সময় মশারি অথবা মশার কামড় প্রতিরোধকারী ক্রিম ব্যবহার এবং নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানোও জরুরি। উল্লেখ্য, ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের প্রতিকার হিসেবেও এই ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করতে হবে।

বর্ষার অন্যান্য রোগ ও প্রতিকার
১) বর্ষা মৌসুমে অন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং হজমের সমস্যার সৃষ্টি হয়। এর ফলে দেহে রোগ-জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি থাকে। এক্ষেত্রে ভাজাপোড়া এবং অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাদ্যের পরিবর্তে নিয়মিত হালকা খাবার গ্রহণ করা উচিত।
২) এই সময় বাইরের খোলা খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। খাবার বেশিক্ষণ খোলা জায়গায় রাখলে তা জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। পানি ভালো করে ফুটিয়ে এবং শাক-সবজি ভালো করে সিদ্ধ করে রান্না করতে হবে।
৩) এই বর্ষায় ডায়বেটিস আক্রান্ত রোগীদের সতর্ক থাকতে হবে। খালি পায়ে হাঁটা বন্ধ করতে হবে। কারণ এর ফলে মাটিতে বিদ্যমান জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৫) বৃষ্টিমুখর এই দিনগুলোতে অ্যাজমা রোগীদের উপর বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে। ঘরের কোনো জায়গায় পানি চুঁইয়ে পড়ছে কিনা তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ এর ফলে মারাত্মক শারীরিক সমস্যা হতে পারে। এছাড়া কাঠের ফার্নিচার, জুতা বা চামড়ার ব্যাগে যাতে ছত্রাক জন্মাতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য করতে হবে।
৬) বিভিন্ন প্রাকৃতিক রোগ ছাড়াও এই মৌসুমে বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনার পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই বর্ষায় বৈদ্যুতিক তার, সুইচ এবং প্লাগসমূহ ভালো করে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। খালি পায়ে, ভেজা কাপড় বা জুতা দিয়ে বৈদ্যুতিক জিনিসপত্র স্পর্শ করা যাবে না।

- শাহরিয়ার মাহী