বৃহস্পতিবার,২৪ অগাস্ট ২০১৭
হোম / সাহিত্য-সংস্কৃতি / একজন বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশু
০৭/৩০/২০১৭

একজন বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশু

- মাহমুদা সুলতানা

প্রায় একঘণ্টা কসরত করে শাড়িটা পরতে পারল ইরা। মা এলেন ঘরে, কিরে ইরা বাসা দেখতে যাচ্ছিস নাকি?
হ্যাঁ মা যেতে তো হবেই। এই সাততলা বাসার যন্ত্রণা আর সহ্য হচ্ছে না।
বাবা এলেন খুব ধীর গতিতে, দেখিস ইরা কমোড যেন থাকে।
হ্যাঁ বাবা আমার সব মনে আছে।
ছোট বোন নীরা এল। ইরা বলল, তোর কী সমস্যা?
হাসল নীরা, সমস্যা তো আছেই। বাবার ওষুধ, মার ওষুধ আর পেস্ট সাবান।
ইরা হেসে বলল, জানি তো।

প্রথমেই বাসা দেখা শেষ করল ইরা। কমোড নেই, হবে না। তারপর মা-বাবার ওষুধ কিনল। টুকিটাকি জিনিসও কেনা হলো। ঘড়ির দিকে তাকাল ইরা। প্রায় একটা বাজে। তরুবুর কথা মনে পড়ল ইরার। ওখানে যেতে হবে। এক মাস হয়ে গেল তরুবুর গল্প দেবার নাম নেই। এতদিন টেলিফোনেই কথা হয়েছে। এবার সামনাসামনি হবে। ইরা একটা দৈনিক পত্রিকায় কাজ করে। বিশেষ সংখ্যার জন্য একটা মুক্তিযুদ্ধের গল্প খুব প্রয়োজন। তরুবু কথা দিয়েছে। গল্প দেবে।
তরুবুর বাসায় গিয়ে পৌঁছাল ইরা। ডোরবেলে চাপ দিতেই দরজা খুলে দিল তরুবু। চমকে উঠে বলল, শেষ পর্যন্ত তুই এলি ইরা?
ইরা একটু রাগের সুরেই বলল, তুমি বোধহয় লেখাটা শুরুই করনি?
তরু ঈষৎ অপ্রস্তুত হয়ে বলল, না রে লেখাটা শুরু করেছি। অপেক্ষা করছি একটা জীবন্ত কিংবদন্তির জন্যে।
তার মানে? ইরার কণ্ঠে বিস্ময়।
সত্যি ইরা, তাঁকে না দেখা পর্যন্ত লেখাটা গতি পাচ্ছে না।
মুক্তিযুদ্ধের নায়িকা কিংবদন্তিকে দেখার খুব ইচ্ছা ছিল ইরার। এদিকে দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছে। ম্লান আলোটা ইরাকে মনে করিয়ে দিল, এখন বাসায় যাওয়া প্রয়োজন। মা নিশ্চয় ভাত নিয়ে বসে আছেন। তরুর শত অনুরোধ ইরাকে আটকাতে পারল না। বাসার পথে রওনা হলো ইরা।

তরুকে আশ্চর্য করে দিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই কিংবদন্তি নায়িকা এসে পৌঁছাল। লক্ষ্মী মাসি। লক্ষ্মী মাসির জীবনের অনেকখানি গল্পই মার কাছ থেকে শোনা। তখন তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। জনযুদ্ধ চলছে চারিদিকে। একই শহরে লক্ষ্মী মাসিরা আর তরুর মা- নানিরা থাকত। মেথরানি পট্টিতে থাকত লক্ষ্মী মাসিরা। লক্ষ্মী মাসি আর চান্দা মাসিরা নানিদের বাসায় কাজ করত পায়খানা আর ড্রেন পরিষ্কারের। লক্ষ্মী মাসি দেখতে খুব সুন্দর। তরুর মা-নানিরা সিদ্ধান্ত নিল গ্রামে চলে যাবে। শহরের পরিস্থিতি খুবই ভয়ংকর। যাবার আগে মা বলেছিল লক্ষ্মীকেÑতোরা শহর ছেড়ে দূরে চলে যা। রাজাকারে দেশ ছেয়ে গেছে।
লক্ষ্মী মাসি হেসে বলেছিল, দিদি তোমরা চলে যাও। আমাদের কোনো ভয় নেই।
মা প্রশ্ন করেছিল, কেন? লক্ষ্মী মাসির নিশ্চিন্ত উত্তর-আমরা তো মেথর। সবাই আমাদের ঘৃণা করে। আমাদের কেউ ধরবে না। ছুঁয়েও দেখবে না কেউ।

লক্ষ্মীর মা-বাবা ছিল। খুবই নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। হঠাৎ একদিন বন্দুকের ভয়ংকর শব্দে আঁতকে উঠল মেথরপট্টির সবাই। সামনেই একটা ডোবা ছিল। ডোবার পানি রক্তলাল হয়ে গেছে। দুজন মানুষের লাশ ভাসছে। কী নির্মম দৃশ্য। লক্ষ্মী মাসি করুণ সুরে বলে, তখনই আমরা সবাই পালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম কোনো নিরাপদ আশ্রয়ে। কিন্তু আমাদের জন্যে কোনো আশ্রয় ছিল না। এদিকে শহর ফাঁকা হতে শুরু করেছে। মেথরপট্টির অবস্থা সবচাইতে শোচনীয়। মানুষজন একেবারে কমে গেছে। তাই কাজ নেই। টাকা রোজগারের পথও নেই। এরই মধ্যে লক্ষ্মীর বাবা মারা গেল। মা হতাশায় মুষড়ে পড়ল।
তরু প্রশ্ন করল, আচ্ছা লক্ষ্মী মাসি, তোমাকে কি রাজাকাররা পট্টি থেকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল?
নাগো মা জননী। আমি বেরিয়েছিলাম ভিক্ষার জন্যে। ঘরে একেবারেই খাবার নেই। ছোট ভাইবোন দুটোর কান্নায় থাকা যাচ্ছিল না। সারা বেলা ঘুরে আধসেরের মতো চাল জোগাড় হয়েছিল। খুব হয়রান লাগছিল। একটা কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে বসেছিলাম। তখন পড়ন্ত বিকেল। সেই সময় এল দুজন লোক। রাজাকারই হবে বোধহয়। এসেই চিৎকার করে উঠল। গালাগালও দিল। একজন বলল, এই চল আমাদের সঙ্গে। সন্ধ্যার আগেই পৌঁছাতে হবে।
তরু বলল, আচ্ছা মাসি, তোমাকে ওরা চিনতে পারেনি?
না তখন আমরা ভয়ে তোমাদের মতো করে শাড়িপরা শুরু করেছিলাম। তাও শেষ রক্ষা হলো না। ওরা দড়ি দিয়ে বেঁধে টেনে নিয়ে চলল আমাকে। সন্ধ্যার কিছু আগে পৌঁছাল এসে মিলিটারি ক্যাম্পে। একজন রাজাকার আমাকে চিনে ফেলল। বলল, কাকে ধরে এনেছিস? এ তো মেথরানি। অন্য রাজাকার দুটো বলল, রাখ তোর মেথরানি। মেয়েমানুষ হলেই হবে। মেজর সাহেবরা চায় মেয়েমানুষের শরীর। জাত পাত ওদের জন্যে কোনো বিষয় নয়।
লক্ষ্মীর কণ্ঠস্বরে তীব্র বিষণ্ণতা-মাগো, তাই সত্যি দেখলাম। ঐ ক্যাম্পে আরো মেয়ে ছিল। সব অফিসাররা ঝাঁপিয়ে পড়ল আমাদের ওপর। তাই ভাবলাম, আমাদের জাতকে ওরা প্রচণ্ড ঘৃণা করে, কিন্তু ভোগ করার সময় কোনো ঘৃণা থাকে না। আনন্দের সঙ্গেই ভোগ করে ঐ নরপিশাচের দল। সে কী বীভৎস দৃশ্য-বর্ণনা করা খুব কঠিন। সমস্ত ক্যাম্পজুড়ে সারা রাত্রি চলত এই ধর্ষণযজ্ঞ। আর মেয়েদের আর্তচিৎকার। সেই চিৎকার বড় ভয়াবহ। আরো ক্যাম্প ছিল আশেপাশে। এগুলো ছিল নারী নির্যাতনের ক্যাম্প। ধর্ষিতা নারীর আহাজারি যে কত মর্মান্তিক সে আমি জানি। মাঝে মাঝে মৃত্যুর খবর শুনতাম। ক’দিন পর আমি অসুস্থ হয়ে পড়লাম। ভাবলাম হয়তো এবার এদের আক্রমণ থেকে রেহাই পাব। সম্পূর্ণই ভুল ধারণা। একই নিয়মে চলত ধর্ষণ। প্রতি মুহূতেই নিজের মৃত্যু কামনা করতাম। মুক্তিযুদ্ধের খবর তেমন পেতাম না। মাঝে মাঝে রাজাকারদের কাছ থেকে টুকরো টুকরো খবর পাওয়া যেত। মাঝে মাঝে আগুনের লেলিহান শিখার তীব্র ধোঁয়া চারিদিক আচ্ছন্ন করে দিত। অঝর ধারায় কাঁদতাম। আমাকে আরেক ক্যাম্পে চালান করা হলো। সেই একই আচরণ একই দৃশ্য। দুবার খাবার দেওয়া হতো। দুপুরে ভাত-তরকারি আর রাত্রে দুটো রুটি। সমস্ত শরীরের যন্ত্রণায় খাবারে কোনো রুচি থাকত না। অনেকেই বমি করত। আমিও করতাম। একদিন টের পেলাম মা হতে চলেছি। অজানা আশঙ্কায় ভীত হয়ে পড়লাম। দুজন রাজাকার আসত আমাদের খাবার দিতে। কাঁদতে কাঁদতে তাদের কাছে অন্তঃসত্ত্বা হবার কথাটা বলতে তারা অশ্লীল ভাষায় গালি দিল আর হাসল অমানুষের মতো। আমি খুব বোকা ছিলাম। সারাক্ষণই কাঁদতাম। যারা বেশি কাঁদে তারা তো বোকাই হয়। একথা আমাকে মিলিদি আর শ্যামাদি বলেছিল। মেয়ে দুটো খুব ভালো ছিল। বুদ্ধিমতি ছিল। একদিন পালিয়ে গেল ওরা। রাজাকাররা এসে খুব হম্বিতম্বি শুরু করল। আমাদের খুব পেটাল। বেশ ক’দিন পর মিলিদি ফিরে এল। মিলিদিকে রাজাকার দুটো ধরে নিয়ে এসেছে। আমাদের ওপর অত্যাচার আরো বেড়ে গেল। মিলিদি কিছু নতুন তথ্য দিল। তুমুল মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে। শিগগিরই নাকি এই সমস্ত ক্যাম্প ধ্বংস করতে আসবে মুক্তিযোদ্ধারা। আমাদের মেয়েদের মধ্যে একটা চাপা উল্লাস লক্ষ করলাম। মিলিদি বলল, যুদ্ধ শেষ হতে বেশি দেরি নেই। কিছুদিনের মধ্যেই পাকিস্তানি সৈন্যদের মৃত্যু ঘনিয়ে আসবে। অনেকদিন পর মিলিদিকে প্রাণ খুলে হাসতে দেখলাম। সমস্ত মেয়ের মুখই হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
আমাদের ক্যাম্প থেকে কিছুদূরে দুটো মিলিটারি ক্যাম্প ছিল। একদিন ক্যাম্প দুটো আগুনের লেলিহান শিখায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো। বেশ কিছু শয়তান মিলিটারি অফিসার মারা গেল। এই প্রথম শুনলাম জয়বাংলা ধ্বনি। আমরা হিসাব করতে বসলাম, প্রায় ছয়মাস হলো এই ক্যাম্পে এসেছি। সেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের দেখলাম। আকাশে দেখলাম পূর্ণিমার চাঁদ। অনেক পাখির কিচিরমিচির শব্দে আনন্দে প্রাণমন নেচে উঠল। মিলিদি বলল, লক্ষ্মী এবার বোধহয় আমরা মুক্তির স্বাদ পাব।
সত্যি দিদি?
হ্যাঁ রে সেদিন চুপিচুপি বাইরে গিয়ে শুনে এসেছি, আমাদের দেশের কিছু মহিয়সী নারীর চেষ্টায় জাতিসংঘ আমাদের মতো মেয়েদের জন্যে নারী পুনর্বাসন কেন্দ্র করেছে। ওখানে আমাদের সম্মানজনক স্থান হবে।
এরই মধ্যে জয়বাংলা শব্দে চারিদিক আনন্দধ্বনিতে ভরে উঠল। আমরা চাক্ষুষ করতে পারলাম না। কিন্তু শুনলাম দেশ স্বাধীন হয়েছে। আমরা পেয়েছি লাল-সবুজের পতাকা। আমার জয়বাংলা নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল। পড়াশোনা জানি না। তাছাড়া বোকা প্রকৃতির। মিলিদি আমাকে অনেক কিছু বুঝিয়ে দিল। আমাদের কী হবে জানি না। কিন্তু অনেক শান্তি আর আনন্দে মনটা কানায় কানায় ভরে উঠল। আমাদের জন্য গাড়ি এল। পথে যেতে যেতে জয়বাংলার গান শুনলাম। অনেক গান। স্বাধীনতার গান। মিলিদি বলল সব পাকিস্তানি মিলিটারি শেষ হয়েছে। দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। অনিদি বলল, আমরা হয়তো পরিবার পাব না, কিন্তু নিরাপদ আশ্রয় পাব। শুনে স্বস্তিতে প্রাণটা ভরে গেল। সুফিয়া কামাল নীলিমা ইব্রাহিমের মতো মহান ব্যক্তিত্বরা এলেন আমাদের সান্ত্বনা দিতে। অনেক মুক্তিযোদ্ধা ভাইরা এল। অনেক আশা আর আশ্বাসের কথা শোনাল তারা। সত্যি মানুষ এত ভালো হয় আগে জানতাম না।
নারী পুনর্বাসন কেন্দ্রে আমাদের আরেক অধ্যায় শুরু হলো। চিকিৎসা পেলাম। ডাক্তাররা সব পাশে ছিলেন। আমাদের পরিবারের কেউ বেঁচে আছে কি না জানি না। কিন্তু অনেক আপনজন আছেন আমাদের ঘিরে। এক সুপ্রভাতে আমার একটি মেয়ে হলো। আরো অনেকের হলো ছেলে অথবা মেয়ে। আমরা জানি না এদের কী করে মানুষ করব, বড় করব। এদের নাম হলো যুদ্ধশিশু। বঙ্গবন্ধু আমাদের নাম দিলেন বীরাঙ্গনা। বীরাঙ্গনা নামটির অর্থও আমাকে নারী পুনর্বাসন কেন্দ্রের একজন ডাক্তার আপা সুন্দর করে বুঝিয়েছিলেন। গর্বে আমার মন ভরে উঠল। আমাদের জন্যেই দেশ স্বাধীন হয়েছে।
লক্ষ্মী মাসি আমার দিকে তাকিয়ে বলল, জান তরু মা আজকের আমার এই অবস্থানের জন্যে তোমার মার ভূমিকা কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ।
মার কাছে শুনেছি। দেশ স্বাধীন হবার পর বাড়িতে ফিরে তোমার খোঁজ করতে গিয়ে মা জানল, মেথর পট্টি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তোমার খবর পায় হীরু দোকানদারের কাছে। তুমি পাকিস্তানি মিলিটারিদের খপ্পরে পড়েছ-বেঁচে আছ কি না বলতে পারে না। তোমার খবরের আশা ছেড়েই দিয়েছিল মা। তখনো তার বিয়ে হয়নি। আমার মামা দুজন গিয়েছিল যুদ্ধে। ফিরে এসে ওরা একদিন মাকে বলে, বুবু নারী পুনর্বাসন কেন্দ্রে যাবি নাকি? অনেক অসহায় নির্যাতিত মেয়েদের স্থান হয়েছে ওখানে। খুব আগ্রহের সঙ্গেই মা রাজি হয়ে গেল। বিস্ময়করভাবে ওখানেই পেয়ে গেল তোমাকে। তোমার কোলে তখন ফুটফুটে একটি মেয়ে।
লক্ষ্মী মাসি বলল, মেয়েটার জন্য খুব চিন্তিত ছিলাম। দেবদূত হয়ে এল একদল বিদেশি। তারা দত্তক নেবে যুদ্ধশিশুদের। নিশ্চিন্তে ওদের হাতে তুলে দিলাম মেয়েটিকে। নারী পুনর্বাসন কেন্দ্রের ঠিকানা ছাড়াও দিদিদের বাড়ির ঠিকানা দিয়েছিলাম। তরু, আজ আসছে আমার সেই মেয়ে। তোমাদের বাড়িতেই আসবে। এখন শুধু আমার অপেক্ষা।
অপেক্ষার পালা ফুরল। এল সেই মেয়ে। দৃপ্ত পদভারে এল ভালোবাসার যুদ্ধশিশু। মায়ের পরিচয় পেয়ে লক্ষ্মী মাসিকে জড়িয়ে ধরল। অপরূপ সেই দৃশ্য। সবাই অভিভূত। মেয়েটির নাম ক্যামেলিয়া। সঙ্গে বিদেশি মা-বাবা। ক্যামেলিয়া বাংলাও বলতে পারে। লক্ষ্মী মাসির পরিচয় জানতে চাইল ক্যামেলিয়া। পরিচয় শুনে আবেগ আপ্লুত স্বরে বলল, আমার মা একজন ক্লিনার্স। খুব ভালো চাকরি। আসলে সংসারজীবনে আমরা সবাই তো ক্লিনার্স। কিন্তু মা, তোমার তো আরেকটা গর্বিত পরিচয় আছে।
মা জিজ্ঞাসা করে, কী মা?
কেন তুমি একজন বীরাঙ্গনা।
ক্যামেলিয়ার সমস্ত শরীর এবং মনে জ্বলজ্বল করে অপূর্ব এক অহংকার।