শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / ফ্যাশন / ফ্যাশনে ফিরে এলো এম্ব্রয়ডারি
০৭/৩০/২০১৭

ফ্যাশনে ফিরে এলো এম্ব্রয়ডারি

-

ফ্যাশন কোনো নিয়ম মেনে চলে না, যার যা পছন্দ সেটাই তার জন্য ফ্যাশন। তবে সবসময়ই একজনের ফ্যাশন অন্যজনকে কিছুটা হলেও প্রভাবিত করে। আর তাই ফিরে ফিরে আসে কিছু ফ্যাশন।

পোশাকের নকশায় এম্ব্রয়ডারি ব্যবহার বেশ পুরাতন। সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি বা শাড়ি যে কোনো কিছুতেই এম্ব্রয়ডারি বেশ মানিয়ে যায়। কিন্তু নতুন এই ফ্যাশনের যুগে এই মাধ্যমটি এক জায়গায় আর সীমাবদ্ধ নয়। ডেনিম প্যান্ট বা শার্ট, লেদারের জ্যাকেট বা ব্যালেরিনা সু যেকোনো পোশাক বা অনুষঙ্গের অলঙ্করণের ক্ষেত্রেই বেছে নেওয়া হচ্ছে এই মাধ্যমটিকে।

ফেইড ব্লু জিন্স বা ডেনিমের উপর উজ্জ্বল রঙের সুতার করা এম্ব্রয়ডারি বেশ দৃষ্টিনন্দন। শুধু জ্যাকেটের ক্ষেত্রে নয় চাইলেই ডেনিম প্যান্টের নিচের অংশে বা মনোমতো যে কোনো জায়গায় এম্ব্রয়ডারি করানো যায়। এছাড়া চাইলেই ডেনিম ব্যাগ বা অন্য কোনো অনুষঙ্গের ক্ষেত্রেও এম্ব্রয়ডারি বেশ উপযোগী। আর পোশাকের ধরন বুঝে কোন ধরনের নকশা এম্ব্রয়ডারি করানো হবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

লেদারের সাধারণ একটি ব্যাগ বা স্যান্ডেলে ভিন্নতা আনতে খানিকটা এম্ব্রয়ডারি মানানসই। জবরজং নকশা নয়, বরং হালকা নকশাই লেদারের অনুষঙ্গের জন্য উপযুক্ত। লেদারের উপর সরাসরি সুঁই না চালিয়ে আলাদা কাপড়ে নকশা করে তা বসিয়ে দেওয়া যেতে পারে জ্যাকেট বা ব্যাগের উপর, এটিও আলাদাভাবে ফুটিয়ে তুলবে অনুষঙ্গটিকে।

হালফ্যাশনে ব্যালেরিনা সু বেশ জনপ্রিয়। একরঙা জুতার পাশাপাশি নকশা বা প্রিন্টের জনপ্রিয়তাও নেহাত কম নয়। সেই ধারায় জুতায় এম্ব্রয়ডারি নতুনত্ব আনতে পারে। জুতার সামনের অংশে হালকা সুতার কাজ পুরো লুকে ট্রেন্ডিভাব এনে দিতে পারে।

এক্সপেরিমেন্ট করার ক্ষেত্রে নিজের সঙ্গে তা কতটা মানানসই সেই সাথে স্থান বুঝে স্টাইল বেছে নিতে হবে।

কামিজের ক্ষেত্রে এখন আবার উঠে এসেছে নকশার এই মাধ্যম। সঙ্গে যোগ হয়েছে ডলার, পুঁতি, লেইস ইত্যাদি।

তবে এম্ব্রয়ডারি করা পোশাক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শারীরিক গড়ন বুঝে নকশা বেছে নিতে হবে। যাদের শরীর কিছুটা ভারি তাদের উচিত ছোট নকশার এম্ব্রয়ডারি বেছে নেওয়া।

এম্ব্রয়ডারি করানোর ফলে কাপড় কিছুটা ভারি হয়ে যায়, তাই কামিজের নিচের অংশে বেশি কাজ করা হলে তা ঝুলে থাকতে পারে। তেমনি শাড়ির কুচির কাছে যেন অতিরিক্ত নকশা না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নতুবা ভারের কারণে তা ঝুলতে থাকবে এবং শাড়ির ভাঁজ নষ্ট হয়ে বেমানান দেখাবে।

তবে যে কোনো ফ্যাশনের মতো এম্ব্রয়ডারির ক্ষেত্রেও সাধারণ একটি নিয়ম মাথায় রাখতে হবে। কোনো কিছুর আধিক্য দেখতে বেমানান। তাই পোশাকের প্রতিটি ভাগেই যেন অ্যাম্বয়ডারির আধিক্য না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন, কুর্তিতে নকশা বেশি থাকলে প্যান্ট এবং ওড়না বেছে নিতে হবে সাদামাটা। তেমনি ব্যাগে নকশা থাকলে তার সঙ্গে মানিয়ে জুতা বেছে নিন, পোশাককে কিছুটা আড়ালে রাখুন।

ভারি নকশাদার স্কার্টের সঙ্গে পরুন একরঙা স্কার্ট। ব্লাউজে কাজ করা হলে সাধারণ একটি শাড়ি পরুন এবং সঙ্গে নিন মানানসই ব্যাগ। সব মিলিয়ে খুব সহজেই নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব।

- সামিরা আহসান