বৃহস্পতিবার,২৪ অগাস্ট ২০১৭
হোম / বিনোদন / নারী কেন্দ্রিক সিনেমা
০৭/৩০/২০১৭

নারী কেন্দ্রিক সিনেমা

-

বিশ্ব সিনেমার বলিষ্ঠ ইতিহাস নির্মাণে নারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অভিনয়ে হোক কিংবা নির্দেশনায়; নারীরা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য ছাপ রেখেছে।নারী দিবসকে সামনে রেখে চলুন জেনে নেই বলিউড ও হলিউডের নারীভিত্তিক কিছু সিনেমার কথা।

পিঙ্ক(২০১৬)
পরিচালনাঃ অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী
“না কোনো শব্দ নয়, সম্পূর্ণ একটি বাক্য। না-এর অর্থ না-ই”— এই সংলাপটিই অমিতাভ বচ্চনের ‘পিঙ্ক’ সিনেমার মূলমন্ত্র। সমাজে নারীদের অবস্থান তুলে ধরার উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি এই কোর্ট রুম ড্রামাটি রচিত মধ্যবিত্ত পরিবারের তিন চাকুরিজীবী নারী – মিনাল, ফালাক ও আন্দ্রিয়াকে নিয়ে। নিজের সম্মান বাঁচাতে গিয়ে সমাজের কাছে কী কী জবাব দিতে হয় প্রত্যেক মহিলাকে, তা আদালত কক্ষে তুলে ধরেছেন অমিতাভ। কোনো মেয়ের ‘না’-এর উপর জোর খাটাতে চাওয়াটা যে পৌরুষহীনতার প্রতীক, সেটি কঠোর এক কেসের মাধ্যমে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরীর ‘পিঙ্ক’।

নীরজা(২০১৬)
পরিচালকঃ রাম মাধওয়ানি
সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত 'নীরজা' সিনেমাটিতে উঠে এসেছে আশির দশকের মুম্বাইের কালো এক রাত। হাইজ্যাক হওয়া প্যান অ্যাম ফ্লাইট-৭৩ এর ৩৮০ জন যাত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন ২৩ বছর বয়সী দুঃসাহসী ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট নীরজা ভানোত। এই প্রেক্ষাপটে তৈরি বায়োপিকটিতে সোনাম কাপুর নীরজার চরিত্রে উপস্থাপন করেছেন তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা পারফরমেন্স। জঙ্গিরা বিমানের দখল নেওয়ার পর যাত্রীদের উপর গুলি চালাতে শুরু করলে বিমানের ইমারজেন্সি দরজা খুলে যাত্রীদের বের করে দেন নীরজা। নিজের প্রাণ বাঁচাতে খুব সহজেই সবার প্রথমে বেরিয়ে আসতে পারতেন তিনি। জঙ্গিদের গুলিবৃষ্টির থেকে ৩টি শিশুকে আড়াল করতে গিয়ে নিজের প্রাণ দেন অসমসাহসী নীরজা। কিন্তু নীরজার সাহসের গল্প এখানেই শেষ নয়, মাত্র ২২ বছর বয়সে বিয়ের পর থেকে ক্রমাগত যৌতুকের চাপে স্বামীকে ছেড়ে দেন তিনি। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে এয়ার হোস্টেস হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন স্বাধীনচেতা ও আত্মবিশ্বাসী নীরজা।

দাংগাল(২০১৬)
পরিচালকঃ নিতেশ তিওয়ারি
বলিউডের আর ৫-৬টি সিনেমার চেয়ে আলাদা হয় আমির খানের সিনেমা, এ কথা কারো অজানা নয়। বায়োগ্রাফিকাল এই স্পোর্টস ড্রামায় আমির খান ভারতের হারিয়ানা প্রদেশের বিখ্যাত রেসলার ও অলিম্পিক কোচ মাহাভীর সিং ফোগাত এর চরিত্রে অভিনয় করেন।মাহভীর সিং ফোগাত তাঁর দুই মেয়ে গীতা ও ববিতা কুমারিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের রেসলার বানানোর জন্য নিজেই ট্রেনিং দেন, সাথে পুরুষ- প্রধান এই খেলায় পরিবর্তন আনেন। পাশাপাশি এই সিনেমায় ফুটে উঠেছে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে নারী-পুরুষের মাঝে বিরাজমান বৈষম্যও।

ফারগো(১৯৯৬)
পরিচালকঃ জোয়েল ও এথানকোয়েন
মারজ গান্ডারসন, ফ্রান্সেস ম্যাকডোরমেন্ড দ্বারা চিত্রিত, একজন গর্ভবতী পুলিশ অফিসার যে একটি সন্দেহজনক মুক্তিপণের কেস সমাধান করার চেষ্টা করছেন। ক্রাইম-থ্রিলার এই সিনেমাটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ফ্রান্সেস ম্যাকডোরমেন্ডের অসাধারণ অভিনয়। কঠোর ও সম্মানিত পুলিশ প্রধান মারজ বিনা দ্বিধায় কেসটির তদন্তে নেমে যান। সিনেমাটিতে মারজ এর এই যাত্রাকে কখনোই নিঃসঙ্গ ও বিষণ্ণ দেখানো হয়নি; বরং সফল পরিবার ও কর্ম জীবন নিয়ে সুখি মারজ। সিনেমাটিতে একটি অপহরণের কেসে খুনের তদন্তের জন্য দায়িত্ব পরে সেখানকার মহিলাচীফ অফিসার মার্জের। ভালোবাসার গণ্ডিতে আবদ্ধ না করার মধ্য দিয়ে মার্জের মতো চরিত্র আরো দৃঢ় হয়, কারণ এই কেসটি তাঁর বিবাহিত বা পার্সোনাল জীবনকে কোনোভাবে ঝুঁকিতে ফেলে না, বরং এটি তাঁর জীবনের একটি অন্যতম দিক হয়ে দাঁড়ায়।
শি’স দা ম্যান(২০০৬)
পরিচালকঃ অ্যান্ডি ফিকম্যান
কমেডি ধরাণার এই সিনেমাটি ভায়োলা(অ্যামান্ডা বাইন্স)-এর জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত। ভায়োলা স্কুলে ছেলের বেশ ধরে থাকে যাতে সে ফুটবল খেলতে পারে। ফান্ডের সংকটে তার স্কুলে মেয়েদের ফুটবল টিম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ভায়োলার ফুটবলের প্রতি একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় না কিছুই। ফুটবলের জন্য ভায়োলা যেকোনো সম্পর্কের বাঁধনে গন্ডিবদ্ধ হতে দেয় না নিজেকে। তাইতো ঠিক যে মুহূর্তে সে বুঝতে পারে তার প্রেমিক তার খেলার প্রতি নিষ্ঠাকে সমর্থন করছে না, সম্পর্কটি থেকে বের হয়ে যায় সে। এই সিনেমাটি প্রমাণ করে কিভাবে একটি মেয়ে একইসাথে চাইলে ভালবাসার মানুষ ও ভালবাসার ক্ষেত্র (ফুটবল) এর মাঝে ব্যালেন্স করে চলতে পারে কিশোর বয়স থেকেই।

- নৌশিন মিথী