বৃহস্পতিবার,২৪ অগাস্ট ২০১৭
হোম / খাবার-দাবার / প্রাণ জুড়াতে ঐতিহ্যের বিউটি লাচ্ছি
০৭/২২/২০১৭

প্রাণ জুড়াতে ঐতিহ্যের বিউটি লাচ্ছি

-

বহু আগে, ঘরে ঘরে যখন ফ্রিজ সহজলভ্য হয়ে ওঠেনি, কোমল পানীয় একটি বিশেষ শ্রেণিরই কেবল আওতার মধ্যে ছিল - তখন তৃষ্ণা মিটাতে মিষ্টি দই আর লেবু দিয়ে তৈরি শরবতই ছিল সাধারন ও মধ্যবিত্তের ভরসা। বর্তমানে পুরান ঢাকার অতি জনপ্রিয় ‘বিউটি লাচ্ছি অ্যান্ড ফালুদা’ দোকানটি আদি ঢাকার বাসিন্দা মরহুম আবদুল আজিজ ১৯২২ সালে শুরু করেন।

প্রথমদিকে তিনি ফুটপাতে একটি টং দোকান শুরু করেন যেখানে পাওয়া যেত লেবুর শরবত। পরবর্তীকালে তার ছেলে মরহুম আবদুল গাফ্ফার আর বর্তমানে তার দুই নাতি মো. জাবেদ হোসেন ও মো. মানিক হোসেন এই ব্যবসা তিন পুরুষ ধরে চালিয়ে আসছেন। ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পেতে থাকে এই দোকানের শরবত, পরবর্তীতে মেনুতে যোগ হয় মজাদার লাচ্ছি। বর্তমানে, লেবুর শরবত আর লাচ্ছির পাশাপাশি এখানকার ফালুদাও বেশ জনপ্রিয়।

দীর্ঘদিন ধরে পুরান ঢাকায় আছেন, কিন্তু জনসন রোডে জজ কোর্টসংলগ্ন বিউটি শরবত চেখে দেখেননি, এমন মানুষ খুঁজতে বেগ পেতে হবে। ধোলাইখাল চৌরাস্তা যেখানে নবাবপুর আর ইংলিশ রোডের সংযোগস্থল তার খুব কাছেই ঐতিহ্যবাহী ‘বিউটি লাচ্ছি অ্যান্ড ফালুদা’ দোকানটির অবস্থান। দোকানটিতে সারাক্ষণ ভিড় লেগেই থাকে। এলাকাবাসী থেকে শুরু করে প্রতিদিন আদালত পাড়ায় আসা লোকজনসহ আশপাশে নবাবপুর, ইসলামপুর, পাটুয়াটুলী, সদরঘাট ব্যবসায়িক এলাকা আর দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের আনাগোনায় দোকানটি থাকে সরগরম।

'বিউটি লাচ্ছি অ্যান্ড ফালুদা'র জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ তাদের শরবত তৈরিতে কোনো কৃত্রিম উপকরণের ব্যবহার নেই একেবারেই। চিনির সিরা, কলম্বো লেবু আর বিটলবণের সমন্বয়ে গুঁড়া বরফের সঙ্গে পরিবেশন করা হয় এই শরবত। নিজেদের তত্ত্বাবধানে পাতা দই দিয়ে বানানো হয় মজাদার লাচ্ছি। সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা অবধি চলে বিরামহীন লাচ্ছি, শরবত আর ফালুদা বানানো আর ক্রেতার সামনে পরিবেশনা।

তাদের যাত্রারম্ভ শরবত আর লাচ্ছির মাধ্যমে হলেও এখন তারা মজাদার আলুপুরিও পরিবেশন করে সারা বছর ধরেই। সাথে থাকে জলপাই এর চাটনি আর শীতকালে এর সঙ্গে যোগ হয় মাংস। বর্তমানে ফালুদা, ফালুদা স্পেশাল, লেবুর শরবত, লাচ্ছি, বিটলবণের লাচ্ছি ইত্যাদি রয়েছে তাদের প্রতিদিনের মেনুতে।

বিউটির ফালুদা বেশ মজাদার। সাবুদানা, মালাই, কলা, আঙুর, আপেল, আনার, খোরমা, কিশমিশ আর চিনির সিরাই মূলত এটি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। একে একে ৪টি শাখা খোলা হয়েছে এই দোকানের, যদিও চাহিদার বিপরীতে তা খুবই সামান্য।

প্রধান শাখা ৩০/১, জনসন রোড (রায়সাহেব বাজার) ছাড়াও ৬০/১, কাজী আলাউদ্দিন রোড, ৩২৫/১, লালবাগ ও বর্তমানে বনানীতে ৯ নম্বর রোডের ৬৬ নম্বর বাড়িতে বিউটি লাচ্ছির আর একটি নতুন ঠিকানা যোগ হয়েছে। বিউটি লাচ্ছি অ্যান্ড ফালুদা ঢাকাসহ সর্বত্র গায়ে হলুদ, বিয়ে থেকে শুরু করে নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে তাদের শরবত ও লাচ্ছি সরবরাহ করে থাকে। তাই নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে রয়েছে তাদের শরবত আর লাচ্ছির ব্যাপক চাহিদা।

তিন পুরুষ ধরে চলমান ঐতিহ্যবাহী বিউটি লাচ্ছির সুনামের কথা পুরান ঢাকার মানুষ ছাড়াও অনেকেই জানেন, আর প্রতিদিন অনেকেই পরখ করতে আসেন ঢাকা ছাড়াও নানা স্থান থেকে। তপ্ত সূর্যের নিচে পিচঢালা রাস্তায় চলার পথে অথবা প্রচন্ড গরমে যুগ যুগ ধরে তৃষ্ণার্ত মানুষকে বরফ ঠান্ডা মিষ্টি পানীয় পরিবেশনায় তৃপ্ত করে আসছে পুরান ঢাকার অন্যতম সেরা বিউটি লাচ্ছি অ্যান্ড ফালুদা।

- ছবি ও লেখা: মোহাম্মদ ওয়াসিম,
- ক্রিয়েটর ফেইসবুক পেইজঃ Puran Dhakar Khabar, এডমিনঃ আপনার রান্নাঘর।