সোমবার,২৩ অক্টোবর ২০১৭
হোম / সাহিত্য-সংস্কৃতি / কবিতা
০৭/১৭/২০১৭

কবিতা

-

মিথপুরাণের গল্প
শতাব্দী জাহিদ

মেঘ, এদিকে এসো-
অন্ধকার গায়ে মেখে
প্রাচীন এই পুকুর পাড়ে
আরেকটু সরে, এই তো এখানে
কৃষ্ণচূড়া, বকুল, কলাপাতার সম্মিলিত জাল বুনে
এখানে চাঁদ লুকিয়ে অন্ধকার জেঁকে বসেছে
এই তো, তোমার অস্তিত্ব টের পাচ্ছি
গ্রিক দেবীদের মতো মলিন
অথচ ঝাঁঝালো গন্ধ তোমার শরীর
যেন আফ্রিকার মাকড়শাদের লালায় বিষাক্ত ফসিল টের পাচ্ছি

মেঘ, আরেকটু সরে, এখানে আসো না
এই তো, ঠিক এখানে।
কৃষকের ধানভানা শব্দের মতো
সন্ধ্যায় নির্জন সমুদ্রের গর্জনের মতো
পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা বনফুলের মতো
নিশ্চয় তুমি প্রাচীনতম কলার মতো
আবিষ্কার করেছ, জেগে তুলেছ আমার মনশরীর।

মেঘ, ঠিক এখানেই কান পেতে হাজার বছরের
পৃথিবী জন্মের মিথপুরাণের গল্প বুনে যাবে।


অদৃশ্য
ফেরদৌসী মাহমুদ

যাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই,
দূরত্ব তাদের অদৃশ্য সাঁকো।
আকাশ থেকে কত উল্কা ঝরে,
কে রাখে মনে?
ভকাট্টা ঘুড়ি
কোন সম্পর্কের সূত্রপাত?
মিলেছে কি জীবনের ধারাপাত?
মৌনতা যদি সময়ের নামতা
হোকনা বিষাদে পরিণত!
অনাদরে না টিকলেও
স্মৃতিপথই খুঁজে নিবে।
বলুকনা লোকে নির্লজ্জতার সম্ভার,
আধার কেটেই আসবে মিলন তিথির আঁধার।
ইচ্ছে নদীতেই ভেসে জানবে
কে আপন, কে পর!
সম্ভাবনা যদিও দূরত্ব
অন্তরেই আছে ঘ্রাণের ঘনত্ব
দূরে ঠেললেই নষ্ট হয় কি সম্পর্ক!!!

নির্বাসনে কবিতা
বাদলকৃষ্ণ বণিক

সব কবিতা
উদাসী হাওয়ায় উড়িয়ে দেব
সব কবিতা
সাতরঙে মিশে যাক
বলাকার পাখনায় মিতালি হোক।
সব কবিতা
হাওয়ায় ভেসে বেড়াবে সাত সমুদ্রতটে।
জলোদরে চন্দ্রিমায় মিলন ঘটুক
সব কবিতার।
আজকাল কবিতা ল্যাম্পপোস্টের আলোয়
লেখা হয় না, হয় শীতাতপ বেডরুমে।
ক্ষত্রিয় হয়ে যায় অক্ষরগুলো, নারীর দেহে
তন্নতন্ন করে খুঁজতে থাকে, ঐখানে
আরো কিছু হয়তো-বা আছে, স্বপ্নে দেখা
আরো কল্পনা বিলাস!
প্রকাশ করতেই হবে জারকরসের ভা-ার
কবি আমার হওয়া চাই
সুনামের মোহে জ্বলছে কবিত্ব।
কবি তুমি ক্ষমা করো, দারিদ্র্যে শব্দ কেঁদে মরে
রুটিরুজিতে কবিতা হয় না,
হয় না প্রেমের জাগতিক মোহনায় রোদন।
কি করে বলো আমায় তুমি সেরা কবি?
অগ্রিম দেয়ার সাধ্য নাই যার, তার কি সাজে
কবি হওয়া?
কবিরাজ হওয়ার সাধ নেই আমার
বিসর্জন দেব আজ সব কবিতা
নির্বাসন দেব আরাধ্য কবিত্ব ভাবনার।


মানুষ আবার যদি মানবিক হয়
শামসুন নাহার

এই যে ঝড় ও জলের সন্ত্রাস
বিপর্যস্ত নাগরিক সুখ।
এই যে দখল আর ভরাটের
বেপরোয়া ভীষণ অসুখ।
এই যে হারিয়ে যাওয়া নাব্যতা,
খরা আর দহনে নদীর বিলাপ।
এি যে দূষণ আর কালিমার
নিয়মিত যুগল আলাপ।
এই যে হত্যা আর শোষণে
নির্যাতিতের আর্তনাদ।
হতাশা আর স্থবিরতায়
ধমকে থাকা প্রতিবাদ।

মানুষ আবার যদি
মানবিক হয়;
প্রকৃতি রুষ্ট হবে
ভালোবাসা নয়।

দুজন দুজনার
আশরাফী হক সাকী

তোমার ব্যস্ততা
আমার বিষণ্ণতা
তোমার অবহেলা
আমার নষ্ট সারাবেলা।
তোমার অস্থিরতা
আমার মৌনবারতা
তোমার যন্ত্রণা
আমার কান্না।
তোমার উষ্ণতা
আমার সিক্ততা
তোমার দৃষ্টির গভীরতা
আমার হৃদয়ের ব্যাকুলতা
তোমার আহ্বান
আমার মন হয় আনচান
তোমার ভালোবাসা
আমার সর্বনাশা
তুমি আর আমি
দুজন-দুজনার
মিলে মিলে এই একাকার।

প্রবাস
মহফিল হক

দীর্ঘ ভ্রমণ শেষ হলে সকলের সাধ জাগে
বিশ্রাম বিলাসী হবার
কারো অপেক্ষা ভ্রমণ বৃত্তান্ত জেনে নেবার
কারো বুকে জ্বলে সেই দীর্ঘ প্রবাসের জ্বালা।

ফেরার প্রত্যাশা বুকে নিয়ে
আজো একপায়ে দাঁড়িয়ে আছি।
আম কি মানুষ না জীবনের উপমা?

হাওয়ার ভেতর কান পাতলে বুকে ভূ-কম্পন
হবার ভয়, কোথায় দাঁড়াব
কে দেখাবে ভালোবাসার অভিজ্ঞান
তাকে ফেরানো যাবে না
সুদূরে আত্মগোপনে প্রলুব্ধ।

সেই বিচ্ছেদ প্রণয় ইচ্ছে নিয়ে
উড়ন্ত কাঁধে হাত রাখলে
জ্যোৎস্নায় প্লাবিত আমার শৈশব
সকৌতুক জলাশয়ে
দুলছে বেজোড় নৌকা।

একটি স্লিম কবিতা
এনামুল হক পলাশ

পৃথিবী অনেক স্লিম,
ওপাশে দাঁড়িয়ে মৃত্যু।
মুঠোয় জীবন আটকে থাকে,
নেমে গেলে থাকে না কিছুই।
নেমে যাও উড়ে যাও অভিলাষ
পথে পথে মৃত ঝরে ঝরে পড়ে।
কানপেতে বসে থেকে শুনি,
মধুরতর শব্দের নাম ইশ্।