সোমবার,২৩ অক্টোবর ২০১৭
হোম / ফ্যাশন / ছোট্টমণিদের ঈদের সাজ
০৬/২১/২০১৭

ছোট্টমণিদের ঈদের সাজ

-

বছর ঘুরে আবারও আসছে রমজানের ঈদ। সঙ্গে নিয়ে আসছে খুশির জোয়ার। আর ঈদের খুশি বেশি দেখা যায় শিশুদের মাঝেই। সঙ্গে থাকে নতুন পোশাক-খেলনা ইত্যাদির আকর্ষণ। আর ছোটমণিদের এই কেনাকাটাগুলো অভিভাবকরা ঈদের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই করে ফেলতে চান ভিড়ভাট্টা এড়ানোর উদ্দেশ্যে। তাই শিশুদের কথা মাথায় রেখেই নিউমার্কেটের ফুটপাথ থেকে শুরু করে গুলশান-বনানীর বড় বড় দোকানগুলো ইতোমধ্যেই রঙিন সাজে সাজিয়ে বসেছে তাদের ঈদ আয়োজন নিয়ে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে বরাবরের মতই এবারও বিভিন্ন ধরনের রঙ ও নকশায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে বাচ্চাদের পোশাক। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও তারা বাজারে এনেছে হাল ফ্যাশনের পোশাক। অঞ্জন’স, কে ক্রাফট, ওটু, আড়ং, রঙ, দেশাল, চাঁদের হাসি, আবর্তন, বার্ডস আই, বরণ, যাত্রা, অন্যমেলা, নগরদোলা, সাদাকালো, নিত্যউপহার সহ প্রায় সব ফ্যাশন হাউসই তাদের নিজেদের ডিজাইন মেলে ধরেছে ঈদকে সামনে রেখে।

পোশাক প্রতিষ্ঠানগুলো এবারের ঈদে ফ্যাশন, স্টাইলের পাশাপাশি আবহাওয়া ও ঋতুকেও বিবেচনা করছে। বৃষ্টির মৌসুমে ঈদ হলেও গরমটা বেশ অসহনীয় পর্যায়ের। তাই রঙের বাহার, নকশা আর জমকালো ভাবের পাশাপাশি পোশাকগুলো গরমের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। রয়েছে সুতি, লিনেন, তাঁত, মসলিন ও খাদির প্রাধান্য।

সাধারণভাবে বাচ্চাদের উজ্জ্বল রঙ পছন্দ। তাই ঈদের ফ্যাশনেও বাহারি রঙের ঝলক দিয়ে সাজানো হয়েছে পোশাকগুলো। তবে, এবছর একরঙা পাঞ্জাবি বা ফতুয়ারও বেশ চল দেখা যাচ্ছে। যেগুলোতে আবার রয়েছে হালকা অথবা গাঢ় রঙের সুতার কাজ।

পোশাকে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের নকশা। নকশার মাধ্যম হিসেবে বেশিরভাগ পোশাকেই ব্যবহার করা হয়েছে ব্লক, স্প্রে, টাইডাই, স্ক্রিনপ্রিন্ট। এছাড়াও রয়েছে এপলিক, অ্যামব্রয়ডারি, কারচুপি, আড়ি, লেস, পুঁতি, ব্লক, পট্টি, কাতান ও হাতের ভরাট কাজ। অন্যদিকে আবার আরামদায়ক পোশাকের জন্য অ্যান্ডি কটন, তাঁতের কাপড় ও বৈচিত্র্য আনার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে লাল, নীল, মেরুন, সবুজ, ফিরোজা, ম্যাজেন্টা, কমলা ও গোলাপিসহ নানা উজ্জ্বল রঙের কাপড়।

মেয়ে শিশুদের জন্য ঘের দেয়া লম্বা কামিজ যেমন চলছে, তেমনি ছেলে শিশুদের পাঞ্জাবিতে এ লাইন কাটের ব্যবহার বেশি। তাছাড়াও মেয়ে শিশুদের জন্য এবার পাওয়া যাচ্ছে পার্টি ফ্রক, থ্রি-পিস, লং ফ্রক, লং কামিজ, ঘাগড়া চোলি, শার্ট-প্যান্ট, কুর্তি, ফতুয়া, টিউনিক ক্যাপি, ডিভাইডার, লেগিংস ও বিভিন্ন ধরনের ওয়েস্টার্ন পোশাক। এমনকি পাওয়া যাবে মেয়ে বাচ্চাদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি শাড়িও। এছাড়া মেয়েদের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, টপস, লং কুর্তার সঙ্গে রয়েছে ম্যাচিং গহনা, স্যান্ডেল ও ব্যাগ। তবে গত কয়েকটা ঈদের মত এবারো ভারতীয় বিভিন্ন সিরিয়াল, সিনেমা ও নাটকের নায়ক নায়িকাদের নামে তৈরি পোশাকগুলোর ভালো চল রয়েছে।

ঈদটা হবে খানিকটা গরমেই। তাই এ সময় দরকার আরামদায়ক পোশাক। গরমকে বিবেচনা করে হাতাসহ ও হাতা কাটা দুই ধরনের পোশাকই থাকছে। সারাদিন ধরে জমকালো পোশাক পরে থাকা শিশুদের জন্য কষ্টদায়ক। সেজন্য সুতি, ডেনিম বা জিনসের প্যান্ট, খাটো হাতার শার্ট ও ফতুয়া দেয়া যেতে পারে। ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্য থাকবে থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট।

বাহারি পোশাক সংগ্রহের জন্য আপনাকে যেতে হবে রাজধানীর নিউমার্কেট, মৌচাক, টুইন টাওয়ার, ইস্টার্ন প্লাস, বেইলি রোড, সুবাস্তু টাওয়ার, কর্ণফুলী মার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেট, বসুন্ধরা ও গাউছিয়া মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে। পাইকারি বিক্রয়ের জন্য প্রসিদ্ধ পলওয়েল মার্কেটসহ গাজী ভবনের বুশরা এন্টারপ্রাইজ, সুস্মিতা এসএম এন্টারপ্রাইজ, ফারুক এন্টারপ্রাইজ, সিকদার এন্টারপ্রাইজ, খাদি ও ক্লিওপেট্রা শপেও শিশুদের জন্য তোলা হয়েছে বিদেশি পোশাক। এ ছাড়া শিশুদের পছন্দ উপযোগী কার্টুন চরিত্র আঁকা ঈদের পোশাক পাবেন ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, রাপা প্লাজা, ইস্টার্ন প্লাজা, মেট্রো শপিংমল ও সীমান্ত স্কয়ারে। ঘুরে আসতে পারেন বদরুদ্দোজা সুপার মার্কেটেও।

আপনার সোনামণির জন্য এসব পছন্দসই পোশাক কিনতে চাইলে আপনাকে গুণতে হতে পারে ৩০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। সাধারণ মার্কেটগুলোতে মোটামুটি অল্প দামেই পেয়ে যাবেন শিশুদের ঈদের জামা। কিন্তু একটু অভিজাত বিপণিতে গিয়ে ভিন্ন ধরনের কিছু খুঁজতে চাইলে বেশ ভালোই বাজেট প্রয়োজন হবে।

পোশাক কেনার সময় গরমের কথা চিন্তা করে শিশুদের সুতি কাপড়কে প্রাধান্য দিতে পারেন। ঢিলেঢালা পোশাক নির্বাচন করুন। রোদ কিংবা ভ্যাপসা গরম থেকে বাঁচতে গাঢ় রঙ পরিহার করুন। পোশাক নির্বাচনে শিশুর পছন্দকে মূল্যায়ন করতেহ হবে, এতে তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে।

- আবরার আওসাফ