বুধবার,২৬ Jul ২০১৭
হোম / ফ্যাশন / বাহারি ঈদ ফ্যাশন
০৬/২১/২০১৭

বাহারি ঈদ ফ্যাশন

-

ঈদের আর কিছুদিনই বাকি। এরই মধ্যে চলছে ঈদের কেনাকাটার ধুম। এবারের ঈদও পড়ছে ভরা গ্রীষ্মে আর তাই পোশাক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে এই বিষয়টি। আরামদায়ক এবং বাতাস চলাচল করতে পারে এমন পোশাকই বেছে নিতে হবে এবারের ঈদে।

এই আবহাওয়ায় সুতি, লিনেন, খাদি, সফ্ট জর্জেট ইত্যাদি কাপড়গুলোই বেশি উপযোগী। কারণ এ ধরনের কাপড়ে তৈরি পোশাকে বাতাস চলাচল করতে পারে সহজে আর তাই আরামদায়ক। তবে কিছুটা গর্জিয়াস চাইলে সিল্ক এবং মসলিন বেছে নেওয়া যেতেই পারে।

এরপর রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দিনের পোশাকে হালকা রংগুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে। নীল, সবুজ, বেগুনি, লাইম, হালকা হলুদ ইত্যাদি রং বেছে নিতে পারেন। রাতের পোশাকের ক্ষেত্রে গাঢ় রং যেমন, মেরুন, লাল, কমলা, কালো ইত্যাদি বেশ মানানসই।

দেশের বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজগুলো এরই মধ্যে তাদের ঈদের পশরা সাজিয়ে বসেছেন। বিভিন্ন হাউজের পোশাকে প্রাধান্য পাচ্ছে ফুলেল নকশা, পাশাপাশি রয়েছে নানান ধরনের পাখি বা মাছের নকশাও। রয়েছে পোলকা ডটের নকশা। এছাড়াও দেশিয় ঐতিহ্য তুলে ধরতে বিভিন্ন পোশাকে নকশি কাঁথার ডিজাইনও তুলে ধরেছেন অনেকে। এবারের আয়োজনে পোশাকের ডিজাইনে বিভিন্ন ধরনের মোটিফ বেশ প্রাধান্য পেয়েছে।

পোশাকের প্যাটার্নে থাকছে ভিন্নতা প্রতিবারের মতোই। এছাড়া জনপ্রিয়তার কথা চিন্তা করে এবারের সব বিপণিগুলোতে রয়েছে কোটি স্টাইল কামিজ বা কুর্তির আধিক্য। এছাড়া গাউন স্টাইল পোশাক রয়েছে এবারের আয়োজনেও। প্যান্টের প্যাটার্নেও কিছুটা ভিন্নতা এসেছে। সিগারেট প্যান্ট, ফর্মাল স্টাইল প্যান্ট এবার স্থান করে নিয়েছে ফ্যাশনে। তবে বিভিন্ন স্টাইলের পালাজ্জো থাকছে এবারও, জনপ্রিয়তা পাচ্ছে অনেক ঘের দেওয়া স্কার্টও।

পোশাক অলঙ্করণে বরাবরের মতোই জনপ্রিয় এম্ব্রয়ডারি এবং চুমকির কাজ করা পোশাক। গাউছিয়া, নিউমার্কেটের বিভিন্ন দোকান থেকে মনের মতো নকশা দিয়ে এম্ব্রয়ডারি করিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে ঈদের আগে কাজের চাপ বেশি থাকে তাই সময় হাতে নিয়ে অর্ডার দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি এখন বিভিন্ন ফেইসবুক পেইজ থেকে ঘরে বসেই পোশাক অর্ডার করা যেতে পারে।

তবে সেক্ষেত্রে আগে থেকে যাচাই বাছাই করে নিন। তাদের কাপড় এবং কাজের ধরন সম্পর্কে এবং তারা ঠিক কতদিনের মধ্যে কাপড় সরবরাহ করতে পারবে সেই সম্পর্কেও নিশ্চিত হয়ে নেওয়া জরুরি। এছাড়াও অনেকের ক্ষেত্রে আগে অ্যাডভান্স করতে হয়, সেক্ষেত্রে এই বিষয়ও কতটা নিরাপদ তা যাচাই করে নিন।

এবারের ফ্যাশনে ওরনা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সাদামাটা পোশাকের সঙ্গে জমকালো ওরনা দারুণ মানিয়ে যায়। ফুলকারি, এম্ব্রয়ডারি করা বা জমকালো প্রিন্টের ওরনা বেশ মানিয়ে যাবে।

পোশাকের সঙ্গে মানানসই স্যান্ডেল, ব্যাগ এবং গয়না কিনে রাখুন কিছুদিন আগে থেকেই। শেষ মুহূর্তের জন্য ফেলে না রাখাই ভালো।

ছেলেদের ঈদের পোশাক মানেই পাঞ্জাবি। দিনটির শুরুই হয় পাঞ্জাবি দিয়ে। আর তাই প্রতিটি শপিং সেন্টার এবং অন্যান্য বিপণিগুলোতে পাঞ্জাবির বৈচিত্র্য চোখে পড়ে রোজার শুরুতেই। হাতের কাজ, এম্ব্রয়ডারি, ব্লক, বাটিক ইত্যাদি নানান ধরনের পাঞ্জাবি পাওয়া যাবে। এছাড়াও রয়েছে ফতুয়া, শার্ট, টিশার্ট, পোলো টিশার্ট ইত্যাদির পশরা।

প্যান্টের ক্ষেত্রে ফর্মাল প্যান্ট, জিন্স, গ্যাভার্ডিন বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র্য পাওয়া যাবে। পুরুষদের ক্ষেত্রেও চাইলে পছন্দের পোশাকটি বানিয়ে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে হাতে সময় নিয়ে কাপড় কিনে বানিয়ে নিতে হবে।

রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে ছেলেদের শার্ট, প্যান্ট, জুতা, পাঞ্জাবি এবং ফতুয়ার বিভিন্ন কালেকশন পাওয়া যাবে। মেনজ ক্লাব, এক্সট্যাসি, ইয়োলো, রিচম্যান, ওয়েস্টেক্স, টেক্সমার্ট, ক্যাটস আই, কে ক্রাফট, ফ্রিল্যান্ড, মন্ড, প্লাস পয়েন্ট, ক্রোকোডাইলস কিংবা ইনফিনিটিতে ঈদ উপলক্ষে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ডিজাইনের শার্ট, পাঞ্জাবি, প্যান্ট, বেল্ট ইত্যাদি। অন্যান্য দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোতেও রয়েছে পোশাকের বৈচিত্র্য।

ছেলেদের পোশাক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নীল, সবুজ, কালো, মেরুন ইত্যাদি রং প্রাধান্য পায়। তবে গরমের বিষয় মাথায় রেখে কালোর বদলে অ্যাশ বা গাঢ় নীল রং বেছে নেওয়া যেতে পারে।

পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য অনুষঙ্গের কথা ভুললেও চলবে না। পাঞ্জাবির সঙ্গে মানানসই পায়জামা এবং স্যান্ডেল বেছে নিন। শার্ট প্যান্টের সঙ্গে বেল্ট এবং জুতা। বেল্ট ও জুতা যেনো একই ধরনের রংয়ের হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

এই গরমে রোজা রেখে কেনাকাটা করা বেশ কষ্টকর। তাই রোদের মধ্যে বেশি বাইরে ঘুরে শপিং করা ঠিক হবে না। এছাড়া এক দিনে সব না কিনে সময় ভাগ করে নিতে পারেন। আর হাতে সময় রেখেই সব প্রস্তুতি নিয়ে ফেলুন যেনো শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া না হয়।

- সামিরা আহসান