শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / জীবনযাপন / গ্রেড-এর বোঝা সন্তানের ওপর চাপিয়ে দেবেন না
০৬/০৮/২০১৭

গ্রেড-এর বোঝা সন্তানের ওপর চাপিয়ে দেবেন না

-

সব মা-বাবার স্বপ্ন থাকে তাঁর ছেলেমেয়ে শীর্ষস্থানীয় একটি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করবে এবং এরপর চাকরি করবে ভালো কোনো জায়গায়। তবে বাবা-মার এই প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য বাচ্চাদের প্রথমে যা করতে হয় তা হলো স্কুলে ভালো রেজাল্ট করা। অনেক অভিভাবক ভালো গ্রেডের জন্য সন্তানের উপর প্রতিনিয়ত চাপ দেন, তাদের মানসিক বা শারীরিক অবস্থার কথা চিন্তা না করেই। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এই চাপ হতে পারে সন্তানের সামাজিক, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ক্ষতিকারক।

কেন অভিভাবক সন্তানদের উপর চাপ দেন বাবা-মা যখন চান তাদের সন্তান স্কুলে ভালো করুক, তাদের উদ্দেশ্য কখনোই খারাপ থাকে না। তারা ভাবেন সন্তানরা এখনো কম-বয়সী এবং তাদের সঠিক পথে পরিচালনা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্কুলে ভালো রেজাল্ট না করলে ভবিষ্যৎ জীবনে তাদের সমস্যা হতে পারে, যা অনেকাংশে সত্য। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় আমাদের দেশের অভিভাবকরা একাডেমিক রেজাল্ট ভালো করার সংস্কৃতি দ্বারা তীব্রভাবে প্রভাবিত। এখন বেশিরভাগ স্কুলেই খুব সহজে বাচ্চাদের প্রতিটি পরীক্ষার নম্বর জানার উপায় আছে এবং এ থেকে বাবা-মা প্রতি পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে শুরু করেন। পাশাপাশি আমাদের দেশে প্রতিযোগী মানসিকতা খুব বেশি, ফলে পরিচিত কেউ ভালো করলে প্রথম চিন্তা মাথায় আসে আমার সন্তানকেও ভালো করতে হবে।

চাপ দেয়ার ক্ষতিকারক দিকগুলোঃ

উত্তেজনা ও উদ্বেগ
অনেক বাচ্চা বাবা-মায়ের অত্যধিক চাপের কারণে ভেঙে পড়ে। বিভিন্ন বাচ্চার ক্ষেত্রে এর প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন রকম। এরফলে আপনার সন্তানের ঘুমের ঘাটতি থেকে শুরু করে খাওয়ায় অরুচি, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, ক্লান্তি, শখের জিনিসগুলোর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব থেকে দূরে সরে যাওয়া-সহ আরও অনেক কিছুর মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে আপনার সন্তানের। এর প্রতিফলন দেখা যায় স্বাস্থ্যেও, উদ্বিগ্ন শিশুদের হতে পারে ডায়রিয়া, পেট ও মাথা ব্যথা। অনেক সময় তারা রাতে দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করে এবং স্কুলে যেতে ভয় পায়। বড়রা যেখানে খুব সহজেই তাদের সমস্যার কথা বুঝিয়ে বলতে পারে, বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি ভিন্ন। অনেক সময়ই এর কোনো শারীরিক প্রভাব না থাকলে তারা বুঝতে পারে না আসলে কি হচ্ছে।

আত্মবিশ্বাসের অভাব
আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের অসংখ্য ক্লাস টেস্ট, কুইজ, টার্ম এক্সাম, ফাইনাল এক্সাম দিতে হয়। এই পরীক্ষাগুলোর প্রস্তুতি নেয়ার জন্য প্রতিদিন গৃহশিক্ষকের কাছে ও কোচিং সেন্টারে পড়া আবশ্যক, সঙ্গে আছে হোমওয়ার্কের চাপ। এত চাপ নেয়ার পর যখন তারা গ্রেড ভালো করতে পারে না, তার প্রভাব সন্তানদের উপর বেশ নেতিবাচকভাবে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা জানান যেসব অভিভাবক সন্তানদের প্রতি পরীক্ষায় সন্তোষজনক রেজাল্ট করার জন্য চাপ দেয় এবং ‘ওভার-ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করে, সে বাচ্চাদের আত্মবিশ্বাস খুব কম হয়, জীবনের ছোটোখাটো খুশিগুলো তারা চিনতে পারে না, ধীরে ধীরে বিষণ্ণতার কবলে পড়ে যায় তারা।

চাপ কমাতে কি করা উচিত অভিভাবকের
কোনো অভিভাবকের পক্ষেই সম্ভব না সন্তানের রেজাল্ট ও ভবিষ্যতের ব্যাপারে একদম-ই চিন্তামুক্ত থাকা। এক্ষেত্রে যা করতে হবে তা হলো আপনার দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণে রেখে চাপ কমানো। সবসময় খেয়াল রাখবেন আপনার সন্তান যেন বুঝতে না পারে আপনার এত চিন্তার কারণ তাদের ব্যর্থতা। খুব অসাধারণ ছাত্র না হলে কোনো বাচ্চার পক্ষেই সম্ভব না একদম সব বিষয়ে আগ্রহ হওয়ার ও সমানভাবে ভালো করার। আপনার সন্তানকে সময় দিন পড়ার জিনিসগুলো বোঝার, তার সঙ্গে বসুন, যা বুঝতে কষ্ট হচ্ছে তা নিয়ে কথা বলুন তার ভয়ের জায়গাগুলোর ব্যাপারে। যদি অল্প চাপেই আপনার বাচ্চা ভয় পেয়ে যায় তাহলে দেরি না করে শিশুদের কাউন্সিলারের পরামর্শ নিন। অনেকেই দেখা যায় মাঝারি ধাঁচের ছাত্র হয়, কিন্তু শৈল্পিক বিষয়গুলোতে তাদের আগ্রহ থাকে। ছবি আঁকা, রান্না করা, খেলাধুলা, গান বাজনা বা এধরনের বিষয়ে আগ্রহ থাকলে আপনার আদরের সন্তানকে স্কুলের পাশাপাশি ভর্তি করিয়ে দিন শৈল্পিক ক্লাসে। সবচেয়ে বড় কথা, আপনার সন্তানকে ভালো কাজে আগ্রহ যোগান এবং সমর্থন করুন।

- নুসরাত ইসলাম