সোমবার,২৩ অক্টোবর ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন প্রতিরোধে
০৫/২৭/২০১৭

ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন প্রতিরোধে

-

শরীরে মূত্র তৈরি এবং দেহ থেকে তা নিঃসরণের জন্য যে অঙ্গসমূহ কাজ করে সেগুলোতে কোনো কারণে ইনফেকশন দেখা দিলে তাকে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই বা UTI) বলে। মেয়েদের মধ্যে এ অসুখটির প্রকোপ খুব বেশি যা ইদানিংকালে বাইরের কর্মব্যস্ত জীবনের কারনে আরও বাড়ছে। তবে একটু সতর্ক হলে এই যন্ত্রনাদায়ক সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া (৯৫%) এবং কিছু ক্ষেত্রে ফাঙ্গাস, প্রোটিয়াস, ক্লেবসিলা, সিউডোমনাস ইত্যাদির কারনে এই ইনফেকশন দেখা দেয়। এছাড়া অনেকের এলার্জিজনিত কারণেও ইউটিআই হতে পারে।

দীর্ঘসময় মূত্রতন্ত্রে জীবাণু অবস্থান করলেই ইউনারি ট্রোক্ট ইনফেকশন-এর লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়।

মূত্রনালীর সংক্রমণ খুব বেশি হয় মেয়েদের। কারণ মেয়েদের মূত্রনালীর দৈর্ঘ্য ছোট, মাত্র ১.৫ ইঞ্চি, অথচ ছেলেদের ৮ ইঞ্চি।

মেয়েদের মূত্রদ্বার ও যোনিপথ খুব কাছাকাছি, মাসিক ঋতুস্রাবের সময় অনেক মেয়ে ময়লা, ছেঁড়া ও নোংরা জাতীয় কাপড় ব্যবহার করেন। এতে জীবাণু প্রথমে যোনিপথে ও পরে সংলগ্ন মূত্রনালীকে সংক্রমিত করে।

মেয়েদের প্রস্রাব না করে আটকে রাখার প্রবণতা বেশি, তাই প্রস্রাবে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।

সঠিক চিকিৎসা হলে সাধারণত ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন ২-৩ দিনেই ভালো হয়ে যায়। যাদের বারবার এই ইনফেকশন হয় হয়, যাদের যৌন অভ্যাস স্বাভাবিক নয়, সঙ্গে ডায়াবেটিস বা অন্যান্য অসুখের উপস্থিতি যেগুলোতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় ইত্যাদি তাদের এই সমস্যা ভালো হতে ১-২ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। দরকার হলে শিরাপথেও এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে অনেক সময় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। মনে রাখবেন, রোগের লক্ষণ উপশম হওয়া মানেই রোগমুক্তি নয়, চিকিৎসক যতদিন চিকিৎসা চালাতে বলবেন, ততদিন চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। কমপ্লিকেটেড ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন-এ সাধারণত ৩-৪ সপ্তাহ অষুধ খেতে হয়।

কিছু উপসর্গ দেখে মূত্রনালীর সংক্রমণ বোঝা যায়। এই উপসর্গগুলো দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। যেমন:
১. প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া বা ব্যথা হওয়া;
২. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া;
৩. তলপেটে ব্যথা;
৪. দুর্গন্ধযুক্ত ও ঘোলাটে প্রস্রাব;
৫. প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া;
৬. কাঁপুনিসহ জ্বর;
৭. বমি বা বমির ভাব হওয়া;
৮. প্রস্রাব করার পর আবার প্রস্রাব হবে এমন ভাবের উদ্রেক হওয়া।

এক্ষেত্রে ড্রাগ থেরাপি হিসাবে চিকিৎসকরা নিম্নলিখিত গ্রুপের ঔষধসমূহ ব্যবহার করে থাকেন, যেমন সেফালোস্পরিন, লিভোফক্সাসিন, গ্যাটিফক্সাসিন ইত্যাদি ব্যাক্টেরিয়াজনিত ইনফেকশনে প্রায় ৯৬% কার্যকর।

অন্যদিকে ফাঙ্গাসের কারণে ইউটিআই হলে ডাক্তাররা অ্যান্টি ফাঙ্গাল ড্রাগস দিয়ে থাকেন, সেই সঙ্গে চুলকানি থাকলে তা রোধ করার জন্য অ্যান্টি ফাঙ্গাল বা করটিকস্টারয়েড জাতীয় ক্রিমও দেওয়া চুলকানি দূর করার জন্য।

তবে যে কোনো অসুখে প্রতিরোধই সর্বোৎকৃষ্ট চিকিৎসা। জেনে নিন, এই সমস্যা প্রতিরোধের কিছু টিপস-

১) প্রতিদিন খুব কম করে হলেও ২ লিটার পানি পান করা উচিত। এছাড়া অন্যান্য তরল যেমন ফলের রস, ডাবের পানি, স্যুপ ইত্যাদি খেতে পারেন। পানি ও অন্যান্য তরল জীবাণুর সংক্রমণ ও বৃদ্ধি প্রতিহত করে মূত্রতন্ত্রকে পরিষ্কার রাখে।

২) বাথরুম ব্যবহারের পরে টয়লেট টিস্যু দিয়ে পেছেন থেকে সামনের দিকে না মুছে, সামনে থেকে পিছনের দিকে ব্যবহার করা- যাতে মলদ্বারের জীবাণু মূত্রপথে এসে সংক্রমণ করতে না পারে।

৩) যৌন সহবাসের আগে ও পরে অবশ্যই প্রস্রাব করা, যাতে মূত্রনালীতে আগত সকল জীবাণু পরিষ্কার হয়। অনেকের সহবাসের পরই ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন শুরু হয়। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনফেকশন প্রতিরোধক এন্টিবায়োটিক সহবাসের পর নেয়া যেতে পারে।

উল্লিখিত লক্ষণগুলো দেখলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। এক্ষেত্রে একজন ইউরোলজিস্ট আপনার জন্য সর্বোৎকৃষ্ট পরামর্শদাতা হতে পারে।

মনে রাখবেন, চিকিৎসায় যার প্রথমবার ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন ভালো হয়েছে, তার ২০% সম্ভাবনা রয়েছে দ্বিতীয়বার ইনফেকশন হওয়ার, যার দ্বিতীয়বার ভালো হয়েছে, তার ৩০% সম্ভাবনা রয়েছে তৃতীয়বার ইনফেকশন হওয়ার, এভাবে সম্ভাবনা বাড়তে থাকে। তাই প্রতিরোধের উপায়গুলো অভ্যাস করুন, সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং সুস্থ থাকুন।

- আমান্না হক