সোমবার,২৩ অক্টোবর ২০১৭
হোম / বিনোদন / নাসিরুদ্দিন শাহ ও এক মন্ত্রমুগ্ধকর সন্ধ্যা
০৫/১৫/২০১৭

নাসিরুদ্দিন শাহ ও এক মন্ত্রমুগ্ধকর সন্ধ্যা

-

উপমহাদেশের নামজাদা অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ একনামে সবার কাছে পরিচিত। বলিউড কিংবা মঞ্চ, সব অঙ্গনেই নিজের অভিনয় প্রতিভার মাধ্যমে কোটি কোটি ভক্তকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। নাসিরুদ্দিন শাহ-এর শৈল্পিক অভিনয়ের কিছুটা ছোঁয়া এবার ঢাকার দর্শকরাও পেয়েছেন। ব্লুজ কমিউনিকেশনের আমন্ত্রণে গত ২১শে এপ্রিল সন্ধ্যায় ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় ‘ইসমত আপাকে নাম’ নাটকটি নিয়ে সপরিবারে হাজির হয়েছিলেন এই ত্রিকালদর্শী অভিনেতা।

স্ত্রী রত্না পাঠক এবং কন্যা হিবা শাহকে নিয়ে এদিন মঞ্চ মাতিয়েছেন এই শক্তিমান অভিনেতা। বলে রাখা ভালো ‘ইসমত আপাকে নাম’ আসলে কোনো একক নাটক নয়। ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের ভারতের জনপ্রিয় লেখক ইসমত চুগতাইয়ের তিনটি গল্প ‘চুইমুই’, ‘মুঘল বাচ্চা’ এবং ‘ঘরওয়ালি’ নিয়ে এই নামে নাটক প্রদর্শন করেন নাসিরুদ্দিন এবং তার পরিবার। নাটকের শুরুতেই নির্দেশক নাসিরুদ্দিন ইসমত চুগতাইয়ের তীক্ষ্ণ লেখনী এবং তৎকালীন সমাজে এর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করেন। রক্ষণশীল সমাজের নানা ভ্রান্ত ধ্যান-ধারণা শত প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের লেখনীতে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ইসমত চুগতাই এবং নাটকের বিভিন্ন অংশে কৃতজ্ঞচিত্তে তা স্মরণ করার প্রয়াস ছিল অভিনেতাদের মধ্যে।

দর্শকপূর্ণ সন্ধ্যায় ‘চুইমুই’ গল্পটি দিয়ে মঞ্চে উঠেন নাসিরুদ্দিনের মেয়ে হীবা শাহ এবং তিনি নিজেও যে একজন জাত অভিনেতা তার প্রমাণ মিলেছে এই নাটকটির মাধ্যমে। এরপর নাটকের দ্বিতীয় গল্প ‘মুঘল বাচ্চা’ নিয়ে মঞ্চে আসেন আরেক তুখোড় অভিনেতা রত্না পাঠক শাহ। গোরে বি এবং কালা মিয়া নামের চরিত্রসংবলিত অসাধারণ গল্পটি কণ্ঠের সুনিপুণ তারতম্য দিয়ে দর্শকের সামনে হাজির করেন তিনি। বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় রত্না পাঠকের অভিনয় এবং গল্প বলার ধরন উপস্থিত দর্শকদের মোহিত করে রেখেছিল কিছুক্ষণের জন্য।

এরপর মঞ্চে আসেন অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ নাসিরুদ্দিন শাহ। জাতীয় পুরস্কার, পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণসহ অসংখ্য পুরস্কার জয়ী এই অভিনেতা ইসমত চুগতাইয়ের ‘ঘরওয়ালি’ গল্পটি নিয়ে সামনে আসেন। পিনপতন নীরবতার মধ্যে নাসিরুদ্দিনের অসাধারণ গল্প বলার ধরন, বাচনভঙ্গি, অভিব্যক্তি এবং অভিনয় যে মোহজালের সৃষ্টি করেছিল তার রেশ যে দর্শকমনে এখনো বিদ্যমান তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালার মতো উপস্থিত দর্শকদের পুরোটা সময়জুড়ে অনুসরণ করতে বাধ্য করেছেন নাসিরুদ্দিন, নাটক শেষে তাই দর্শকমুখে একের পর এক বিশেষণ ছাড়া কিছু পাওয়া যায়নি। মনোমুগ্ধকর এমন একটি সন্ধ্যা শেষে দর্শকদের মনে ক্ষণিক শূন্যতা তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। তা ভেবেই বোধহয় যাওয়ার আগে নাসিরুদ্দিন বললেন, ‘আগামী বছর আবার আসছি।’ নাসিরুদ্দিন আবার আসবেন এবং জীবনমুখী গল্প-অভিনিয়ে এমন আরো একটি অদ্বিতীয় সন্ধ্যায় উপহার দিবেন এই কামনা তাই সবারই।

- নাইব