বুধবার,২৬ Jul ২০১৭
হোম / বিজ্ঞান-প্রযুক্তি / মোবাইল অ্যাপে পরিবহন সেবা, জ্যাম থেকে মুক্তির মোক্ষম অস্ত্র
০৪/৩০/২০১৭

মোবাইল অ্যাপে পরিবহন সেবা, জ্যাম থেকে মুক্তির মোক্ষম অস্ত্র

-

বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর ঢাকায় নানা প্রকট সমস্যার একটি হলো ট্রাফিক জ্যাম। মাত্রাধিক পরিমাণের এই জ্যামের ফলে প্রতিদিন অনেকটা সময় কেটে যায় জ্যামে বসেই। গণপরিবহণে উপচেপড়া ভিড়ের মাঝে লম্বা সময় ধরে জ্যামে বসে থাকাটা এ শহরের অনেক মানুষেরই দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভিড় ঠেলে ছুটে চলা বাইক কিংবা জ্যামের মাঝে প্রাইভেট কারে আরামে বসে থাকার ইচ্ছে থাকলেও সাধ্য অনেকের নেই। তবে দেশে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ছোঁয়ায় কিছুদিন ধরে ব্যতিক্রম চিত্র দেখা যাচ্ছে। মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে ভাড়ায় ঢাকা শহরে চালু হয়েছে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সেবা যার মাধ্যমে প্রয়োজন অনুসারে বাইক কিংবা প্রাইভেট কার বা ট্যাক্সি পাঠানোর জন্য মোবাইল অ্যাপে অর্ডার দিচ্ছেন অনেকেই।

অ্যাপ ভিত্তিক পরিবহন সেবা
মোবাইল অ্যাপে পরিবহন সেবার ধারণা নতুন কিছু নয়। অনলাইন থেকে প্রয়োজন অনুসারে ট্যাক্সিক্যাব অর্ডারের সার্ভিস নিয়ে বেশ ক’বছর আগেই উবারের আবির্ভাব ঘটেছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশে উবার সার্ভিস চালু করার পাশপাশি বেশ কয়েকটি অ্যাপভিত্তিক সার্ভিস বের হয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে পরিবহন সেবা পাওয়ার পদ্ধতি বেশ সহজ এবং প্রায় সব অ্যাপেই একই রকম। এক্ষেত্রে প্রথমেই গ্রাহককে অ্যাপ স্টোর থেকে যে নামের সার্ভিসটি চাচ্ছেন সেই অ্যাপটি নিজের ডিভাইসে ইনস্টল করে নিতে হবে। এরপর গ্রাহক নিজের মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল (সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়)-এর মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট তৈরি করবেন। অ্যাপের ইন্টারফেসে তিনি যে স্থানে আছেন এবং যেখানে যেতে চান তার ম্যাপের মাধ্যমে দূরত্ব ও আনুমানিক ভাড়ার হিসেব দেখানো হবে। এরপর ব্যবহারকারী ইচ্ছে হলেই বাইক/ট্যাক্সি অর্ডার করতে পারবেন এবং তা কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি যেখানে অবস্থান করছেন সেখানে চলে আসবে। অর্ডারের পর পরিবহনটিতে উঠলে শুরুতে নির্দিষ্ট পরিমাণ খরচ আসবে এবং এরপর প্রত্যেক কিলোমিটার অনুযায়ী ভাড়া যোগ হতে থাকবে। তবে গ্রাহক যদি অর্ডারের পর তা কিছুক্ষণ পর বাদ দিতে চান তবে তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জরিমানা দিতে হবে।

ট্রাফিক জ্যামের সহজ সমাধান ‘পাঠাও’
২০১৫ সালের মার্চে যাত্রা শুরু করা উদ্যোগ ‘পাঠাও’-এর মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন ও কুরিয়ার সেবা প্রদান করা হয়। ট্রাফিক জ্যাম ঠেলে দ্রুত অফিস বা গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য বাইকের কোনো বিকল্প নেই। আর বাইকের মাধ্যমে দ্রুত পরিবহনের সেবাই ‘পাঠাও’র মূলমন্ত্র। এই সার্ভিসে সর্বনিম্ন ভাড়া বা বেইজ ফেয়ার ২৫ টাকা এবং এরপর প্রতি কিলোমিটারে খরচ পড়বে ১২ টাকার মতো এবং প্রতি মিনিটে পঞ্চাশ পয়সা করে খরচ মোট ভাড়ায় যোগ হবে। ঢাকা শহরের রাস্তায় সিএনজির তুলনায় যথেষ্ট সাশ্রয়ী এবং দ্রুতগামী এই সার্ভিস।

‘চলো অ্যাপে’ পরিবহন সেবা
তাৎক্ষণিক ট্যাক্সিসেবার পাশাপাশি অ্যাপ, ফোনকল কিংবা ইমেইলের মাধ্যমে আগে থেকে গাড়ি বুকিং দেয়ার সুবিধা আছে এই অ্যাপে। অ্যাপটিতে প্রিমিয়াম এবং ইকোনমি নামে দুটি সেকশন রয়েছে যার বেইজ ভাড়া যথাক্রমে ৩০০ ও ১০০ টাকা। দ্রুত ট্যাক্সি সার্ভিসের সঙ্গে এই সার্ভিসের আওতায় সারাদিনের জন্য গাড়ি ভাড়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

‘আমার রাইড’-এ দ্রুত যাতায়ত
অন্য দুটি অ্যাপের মতো একই ধরনের সার্ভিস দেয় ‘আমার রাইড’। অ্যাপটিতে বাইকের পাশাপাশি ট্যাক্সি এবং কুরিয়ার সার্ভিসও রয়েছে। অ্যাপটির মাধ্যমে ইন্টারফেস থেকে ম্যাপ দেখে গন্তব্য সিলেক্ট করার পর ট্যাক্সি, বাইক এবং কুরিয়ারের জন্য আলাদা আলাদা ভাড়া দেখে গ্রাহক নিজের খুশিমতো পরিবহন সেবা বেছে নিতে পারবেন।

জ্যাম ঢাকা শহরের নৈমিত্তিক ব্যাপার বলা চলে। তাই জ্যামের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নষ্ট হওয়া বন্ধ করতে এই সার্ভিসগুলো হতে পারে আপনার মোক্ষম অস্ত্র।

- শাহরিয়ার মাহী