বৃহস্পতিবার,২৭ এপ্রিল ২০১৭
হোম / রূপসৌন্দর্য / বৈশাখী সাজের অনুষঙ্গ
০৪/১১/২০১৭

বৈশাখী সাজের অনুষঙ্গ

-

বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেওয়ার এই প্রাণের উৎসবে ঘরে বসে থাকলে কি চলে! আর হৈ-হুল্লোড়ের সঙ্গে এই দিনটিকে স্বাগত জানাতে চাই কিছু পূর্ব-প্রস্তুতি।

বৈশাখের পোশাক বাছাইয়ের পর বেছে নিতে হবে পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়না। যেহেতু বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব তাই এই দিনের সাজের মধ্যে থাকতে হবে ষোলআনা বাঙালিয়ানা। বাঙালি সাজ বলতেই চোখে ভেসে ওঠে হাতভর্তি রেশমি চুরি, কপালে লাল টিপ, নাকে নথ আর পায়ে আলতা। এসব মিলিয়েই পরিপূর্ণা বাঙালি নারী।

অনুষঙ্গ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রথমেই খেয়াল রাখতে হবে তা পোশাকের সঙ্গে মানাচ্ছে কিনা। শাড়ির সঙ্গে হাতভর্তি চুড়ি, কোমরের বিছা, পায়ে আলতা বেশ ভালো মানিয়ে গেলেও এই অনুষঙ্গগুলো কামিজ বা কুর্তির সঙ্গে বেমানান। সেদিক থেকে কামিজের সঙ্গে অল্প কিছু চুরি, কপালে টিপ, নাকফুল মানানসই। তাছাড়াও পোশাকের সঙ্গে মানিয়েই গয়নার রংটা বেছে নিতে হবে।

এবার আসা যাক কোথায় পাওয়া যাবে বাঙালি অনুষঙ্গগুলো।

কাচের চুড়ি পাওয়া যাবে শহরের বিভিন্ন জায়গায়। মূলত চারুকলা অনুষদের সামনে, টিএসসি চত্বরে প্রায় সবসময়ই হরেক রং-এর কাঁচের চুড়ির পসরা বসে। ধরনভেদে দাম পড়বে ৩০ থেকে ৬০ টাকা ডজন। এছাড়াও গাউছিয়া মার্কেটেও পাওয়া যাবে বিভিন্ন ধরনের চুড়ির দোকান।

টিপ খুঁজতেও খুব একটা বেগ পেতে হবে না। যে কোনো কসমেটিকসের দোকানেই পাওয়া যাবে টিপের পাতা। নানা ডিজাইনের, নানা ম্যাটেরিয়ালের টিপ পাওয়া যায় বাজারে। গোল টিপের পাতার দাম হতে পারে ২০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। স্টোনের টিপের দাম পড়বে ৫০ টাকা পাতা।

দেশি সাজের আরেকটি দরকারি অনুষঙ্গ হোল নাকফুল। বাঙালিয়ানা সাজে নাকফুলের জুড়ি নেই। রূপা, গোল্ডপ্লেটেড, অক্সিডাইজড, স্টোন - রয়েছে নানারকমের, ডিজাইনের নাকফুল। বিভিন্ন গয়নার দোকানে সাধ্যের ভেতরেই পেয়ে যাবেন নানান নকশার নাক ফুল। আড়ং-এর বিভিন্ন শোরুমে পাবেন নাকফুলের বিশাল কালেকশন। দাম নির্ভর করবে নকশা এবং রূপার পরিমাণের উপর। এছাড়া যাদের নাক ফোড়ানো নেই তাদেরও হতাশ হবার কিছু নেই। এখন নানান নকশার ফলস পিনও পাওয়া যাচ্ছে। আড়ং-এর পাশাপাশি বিভিন্ন শপিংমলে পাওয়া পাবে এধরনের নাকফুল। সাধারণ নাকফুলের দাম পড়বে ৫০ থেকে ২শ’ টাকার মধ্যে। রূপার নাকফুলের দাম আরও কিছুটা বেশি হবে।

শাড়ি পরা পায়ে রাঙা আলতা যেন বাঙালির একেবারে নিজস্ব সাজ। নববর্ষের উৎসবে ঢাকাই শাড়ির সাথে পায়ে আলতা ছাড়া যেন মানায় না। এই আলতা পেয়ে যাবেন বিভিন্ন কসমেটিকসের দোকানে। দাম পরবে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। বিছা পাওয়া যাবে গাউছিয়া নিউ মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে। নকশা ভেদে আড়াইশ’ থেকে চারশ’ টাকা হতে পারে বিছার দাম। তবে এসব জায়গা থেকে কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই দামাদামি করতে হবে।

বৈশাখী সাজে চুলে ফুল না পেঁচালে কি চলে! সাজ শেষে খোঁপায় বা বেণিতে সাদা গাজরা বা গোলাপ গুঁজে দিলে পুরো সাজ পাবে পূর্ণতা। সাধারণত ফুলের দাম কম হলেও বৈশাখে চাহিদা বেশি হওয়ায় দামও কিছুটা বেড়ে যায়। গাজরার দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্তও হতে পারে। গোলাপফুল প্রতিটি ১৫ থেকে ২০ টাকা। তবে কেনার আগে কিছুটা দামাদামি করে নেওয়া ভালো।

সবকিছুর পাশাপাশি পোশাকের সঙ্গে মানানসই ব্যাগ নেওয়া উচিত। আর দীর্ঘ সময়ের জন্য বের হলে অবশ্যই মাঝারি বা বড় আকারের ব্যাগ সঙ্গে নেওয়া জরুরি। ব্যাগে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে বের হতে হবে, যেমন পানি, ছাতা ইত্যাদি। সাজগোজ শেষ করে, সব প্রস্তুতি নিয়ে এবার নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বেরিয়ে পড়ুন প্রিয়জনের সাথে।

- বেলা দত্ত