শুক্রবার,২০ অক্টোবর ২০১৭
হোম / অন্দর-বাগান / চির বসন্ত আনুন আপনার অন্দরমহলে
০৪/০৪/২০১৭

চির বসন্ত আনুন আপনার অন্দরমহলে

-

বসন্ত প্রায় শেষ হয়ে এলো। বৈশাখ কড়া নাড়ছে দরজায়। কিন্তু গরম পরলেই কি আর ফাগুনের সব রঙ শুকিয়ে যেতে হবে? বাড়ির আসবাবপত্র এদিক-সেদিক করে সারা বছরই আপনার অন্দরে ধরে রাখতে পারেন রঙের ঋতু - বসন্ত।

প্রণোচ্ছল রঙ, প্রাণোচ্ছল আপনি কমলা, হলুদ, সবুজ ইত্যাদি প্রাণোচ্ছল বর্ণ দিয়ে সাজিয়ে নিন প্রতিটি ঘর। বসন্তের রঙ হলো হলুদ। তাই শুরু করুন হলুদ দিয়েই। তবে অন্যান্য সময়ের চেয়ে এসময়ে রঙের ক্ষেত্রে বেশি স্বাধীনতা পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে হলুদ ও কমলা রং এনার্জি ও মুড উদ্দীপক। এই রঙগুলোর মধ্যে নজরকাড়া গুণও রয়েছে। কীভাবে ঘর সাজাবেন এই দুটি রঙ দিয়ে?

বেডরুমের চাদর, পর্দায় নিয়ে আসুন এই রঙগুলো, চা পান করুন হলুদ রঙের কাপ দিয়ে। সোফার কভার, কুশন কভার এমনকি কার্পেট বা শতরঞ্জিতেও উজ্জ্বল রং ব্যবহার করুন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন সব রঙের মাঝে একটি মিল থাকে। ডাইনিংরুমে একটি বড় সাদা রঙের বোলে কমলা সাজিয়ে রাখুন বা লম্বা গ্লাসদানিতে লেবু রাখুন। বসন্তের ভাব আনতে চাইলে সবচেয়ে ভালো হয় ঘরে ঢুকতেই একটি বড় ফুলদানিতে হলুদ ফুল রাখলে। ফুলগাছের ছোঁয়া থাকলে বাইরের পরিবেশের প্রতিফলন পাওয়া যায় ঘরেও।

বসন্তের স্নিগ্ধতা ঘরে আনতে পু®পশোভিত ওয়ালপেপার ব্যবহার করুন। গৃহসজ্জার ক্ষেত্রে প্রথমেই প্রাধান্য পায় বসার ঘর। কেননা অতিথি এলে এই ঘরেই তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। তাই এই ঘরটিকে সাজাতে হবে আকর্ষণীয় ও রঙিন করে।

সূর্যালোক ও সবুজ বসন্তকাল হলো গায়ে সূর্যের উষ্ণতা মেখে নেয়ার সময়। তাই ঘরের জানালাগুলো যথাসম্ভব খোলা-ই রাখুন। এর সঙ্গে নিজেকে ঘিরে নিন সবুজ গাছপালা দিয়ে। বারান্দা বা ঘরের বাইরের জায়গার পাশাপাশি নিজের বেডরুম থেকে শুরু করে অন্যান্য সব ঘরে ইনডোর প্ল্যান্ট লাগানো শুরু করুন। এতে ঘরের ভেতর শ্বাস নেয়া সহজতর হবে। বিভিন্ন রিসার্চের মতে, গাছপালা মনের প্রশান্তি অনেকাংশে বৃদ্ধি করে। তাছাড়া সময় করে গাছের যত্ন নেয়া, যেমন বনসাই গাছ ছাঁটাই করা কিংবা একটি ফুটন্ত ফুলের গাছে পানি দেয়া ইত্যাদি প্রফুল­ করে তোলে মনকে। স্নিগ্ধ আলো ও সবুজ সতেজ গাছের সমাবেশ বসন্তের ছোঁয়া নিয়ে আসবে আপনার নীড়ে ও পূর্ণতা দেবে গৃহসাজকে।

স্পেশাল কর্নার
ঘরের একটা কোণকে বিশেষভাবে সাজাতে পারেন বসন্তের থিম মাথায় রেখে। একটি ডিভান বা তোষকের উপর রঙিন চাদর ও হরেক ডিজাইনের কুশন দিন। দুপাশে বসিয়ে দিন দুটি লম্বা ফুলদানি। ফুলদানিগুলো অন্য সময় খালি রাখলেও বসন্তের সময় হলুদ বা কমলা ফুল রাখুন এতে। অথবা একটি সাইড-টেবিলের উপরে টেবিল ল্যাম্প রেখে তার চারপাশে কয়েকটা মাটির শো-পিস বা প্রদীপ রাখা যেতে পারে। সঙ্গে টেবিলের নিচে মাটির চাড়িতে পানি ও গোলাপজল মিশিয়ে দিয়ে কিছু ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে দিন এবং সঙ্গে কয়েকটি মোম জ্বালিয়ে পানিতে ভাসিয়ে দিন। এতে ঘরে তৈরি হবে স্নিগ্ধ ও মোহনীয় এক পরিবেশ।

পাখির নীড়
বাড়ির সামনে বাগানের জায়গা থাকলে তাতে প্রজাপতি ছড়িয়ে দিন, আর বাড়ির ভেতর ঘটাতে পারেন কিছু পাখির আগমন। বারান্দায় একটি খাঁচা ঝুলিয়ে দিন এবং বসন্তের প্রতি সকালে ঘুম থেকে উঠুন পাখির মধুর কিচিরমিচির শব্দে। একটি খাঁচা ঘরে প্রবেশের পথেও রাখতে পারেন। প্রজাপতি পালন করা না গেলে ঘরের কিছু খালি দেয়ালে এর চিত্রাঙ্কন করিয়ে নিতে পারেন।

ছোটো বাগান
বাড়ির সামনে খালি জায়গায় বা বারান্দায়, যেখানে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারবে, সেখানে নিজস্ব একটি বাগান বানিয়ে নিন, বসন্তকে মাথায় রেখে। চাইলে কোনো একটি দেয়াল ধরেও পাশাপাশিভাবে বানিয়ে নিতে পারেন বাগান।

বাঙালিয়ানার ছাপ
বসন্তকাল বাঙালির উৎসবের মাস হিসেবে খ্যাত। তাই এই ঋতুর গৃহসজ্জায় বাঙালিয়ানার ছাপ থাকতে হবে। ঘরসাজানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন দেশি উপাদান, যেমন- প্রদীপ, মাটির বিভিন্ন শো-পিস, নকশীকাঁথা, বাঁশ বা বেতের শো-পিস, কাঁসার থালাবাসন, হাতপাখা, আলপনা ইত্যাদি। বাঙালিদের ঐতিহ্যবাহী সকল উপাদানের সমন্বয়ে ঘর সাজালে বাঙালির ঐতিহ্য ফুটে উঠবে এই বসন্তে।

- নুসরাত ইসলাম