বৃহস্পতিবার,২৭ এপ্রিল ২০১৭
হোম / রূপসৌন্দর্য / ব্রণের দাগ ও মুক্তির উপায়
০৩/৩০/২০১৭

ব্রণের দাগ ও মুক্তির উপায়

-

ব্রণ আর ব্রণের দাগ অনাকাক্সিক্ষত অতিথির মতোই। ব্রণ শুকিয়ে গেলেও রেখে যায় বেহায়া আর জেদি দাগ। আর এই দাগ থেকে মুক্তি পেতে আমাদের চেষ্টার অন্ত নেই।

বিভিন্ন ক্রিম বা প্রসাধনী ব্যবহার করে দাগ হালকা করা গেলেও তা আবার কিছুদিন পরেই ফিরে আসে। কারণ প্রসাধনী দাগ হালকা করলেও তা গোড়া থেকে দূর করতে পারে না। ঘরোয়া উপায়ে কিছু দাগ দূর করা গেলেও কিছু ক্ষেত্রে এর থেকে মুক্তি পেতে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হতে পারে। আর এক্ষেত্রে দাগটির কারণ ও এর ধরণ বুঝে দাগ দূর করার উপায় বেছে নিতে হবে।

বিভিন্ন কারণে ত্বকে দাগ পরতে পারে। দীর্ঘদিনের জেদি দাগ হতে পারে হরমোনের অসামঞ্জস্যের কারণে। অথবা ত্বকের গভীরে ত্বকের কোষ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কারণেও ব্রণের দাগ পরতে পারে।

‘ফলিকুলার ম্যাকুলার অ্যাট্রফি’ নামক এক ধরনের ছোট আকারের ব্রণ হয়ে থাকে যার ভিতরে ‘হোয়াইট হেডস’ এর মতো আঁশ হয়ে থাকে। এই ধরনের ব্রণ সাধারণত বুকে ও পিঠে হয়ে থাকে।

এছাড়া ত্বকে অনেক সময় বেগুনি বা নীলচে ছোপ দেখা দেয়। এগুলো মূলত রক্তনালীর উপর ছোপ পরায় হয়।

এসবের সঙ্গে সাধারণ ব্রণের দাগ তো রয়েছেই। ত্বকের উপরিভাগে মূলত এই দাগ পরে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ধরনের দাগ সময়ের সঙ্গে হালকা হয়ে যায়।

ব্রণ ছাড়াও অনেক সময় মানসিক চাপ, হতাশা এবং অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে ত্বকে দাগ পরতে পারে।

ব্রণের দাগ যে কারণেই হয়ে থাকুক না কেনো তা অত্যন্ত বিরক্তিকর। তাই ব্রণের দাগ যেনো না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত। হরমোন জনিত কারণে হওয়া ব্রণ এড়ানো না গেলেও স্বাভাবিক ব্রণ থেকে যেনো দাগ না হয় তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যেতেই পারে।

ব্রণের দাগ মূলত পরে যখন তা শুকাতে শুরু করে। তাই ওই সময় তা হাত দিয়ে খোটানো মোটেই উচিত নয়। কারণ ব্রণ খোটানো হলে দাগ বেশি গাঢ় হয়ে পরতে পারে।

যখন ব্রণ শুকাতে শুরু করে তখনই দাগ দূর করতে কার্যকর উপাদান সমৃদ্ধ ক্রিম বা মলম ওই জায়গায় লাগিয়ে রাখতে হবে। আল্ফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড বা এএইচএ সমৃদ্ধ প্রসাধনী বা গ্লাইকলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ উপাদান ত্বক থেকে ব্রণের দাগ দূর করতে উপযোগী। এছাড়া কজিক অ্যাসিড ও ভিটামিন সি ও দাগ দূর করতে সহায়তা করে।

সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির কারণে ত্বকে পোড়াভাবের পাশাপাশি দাগ ছোপও বেশি পরে। তাই ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। ঘর থেকে বের হওয়ার ১৫ মিনিট আগে কমপক্ষে এসপিএফ-৩০ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

যদি দাগ পরার পর তা দিন দিন আকারে বড় হতে থাকে তাহলে তার কারণ হতে পারে ‘হাইপার পিগমেন্টেশন’। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সব থেকে উপকারী কজিক অ্যাসিড। এই অ্যাসিড ত্বকের মেলালিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ছোপ ছোপ কালচে দাগ দূর করতে সহায়তা করে।

ত্বকের মৃত কোষ দূর করার পদ্ধতি স্ক্রাবিং বা এক্সফলিয়েশন নামে পরিচিত। ত্বক পরিষ্কার ও কোমল রাখার জন্য স্ক্রাবিং বেশ উপযোগী। কিন্তু অতিরিক্ত স্ক্রাবিং ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাছাড়া স্ক্রাবারের দানাদার উপাদান ব্রণের উপরের নরম অংশের জন্য ক্ষতি করে, এতে দাগ গাঢ় হয়ে পরতে পারে।

আমাদের মুখের ত্বক অত্যন্ত কোমল ও সংবেদনশীল হয়ে থাকে তাই ত্বকের বাড়তি যতœ নেওয়া জরুরি।

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কেমিকলযুক্ত প্রসাধনীর বদলে ঘরোয়া ও ভেষজ উপাদান ব্যবহার করা উচিত। যেমন চন্দনের গুঁড়ো, মুলতানি মাটির প্যাক, বেসন-মসুরের ডালবাটা ইত্যাদি যেমন ব্রণ সারাতে সাহায্য করে, সেই সাথে দাগ দূর করতেও অনেক কার্যকরি। আর এতে কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও থাকে না।

- বেলা দত্ত