আজ শনিবার, ২৩ Jul ২০১৬ Saturday July 23rd, 2016
অনন্যা ঈদ রসনাবিলাস (০১-১৫, জুলাই ২০১৬) সংরক্ষন করুন জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে । মূল্য ৫০ টাকা মাত্র ।
ঈদ উৎসব দেশে দেশে
একমাস যাবৎ সিয়াম সাধনার পর সারা বিশ্বের ইসলাম ধর্মানুসারীরা উদযাপন করবে তাদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর। বিশেষ করে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে ঈদের দিনটি ধর্মীয় ও.....

সর্বাধিক পঠিত


‘সেক্সি’ বার্বি ডলের হিজাব ধারণ!
বিবাহিত জীবনে চিরসুখী হতে চান?
স্ট্যামিনা বাড়াতে করণীয়
তারুণ্য হারাবে যেসব ভুলের কারণে
তনু ইস্যুতে কয়েকটি বিবেচনা
কুক অ্যান্ড ডাইন উইথ সায়মা
‘ভীষণ ইচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গ্লোবাল কাজ করার’ বলিউড-হলিউড'র খ্যাতনামা প্রযোজক আনাদিল হোসেন
.

ছবির হাট


ঈদসংখ্যা


সাহিত্যের শক্তি এবং উৎসবের সাঁকো
কবি হচ্ছে মিথ্যুক প্রজাতি, অকাজের ঢেঁকি। এমন ভয়ঙ্কর মতামত দিয়েছেন মহামতি প্লেটো। তাঁর মতে, কবি বা শিল্পস্রষ্ঠারা ইমোশনকে উগড়ে দেয়, যা মানুষের যুক্তিকে অন্ধ করতে যথেষ্ট। কবি বা লেখকরা কেবল অনুকরণ করে, যা রচনা করে তা নতুন কিছু নয়, একটি সৃষ্ট জিনিসকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অন্যভাবে উপস্থাপন করে মাত্র। সাহিত্যের ব্যাপারে মহামতি প্লেটোর এ-বড়ো গুরুতর অভিযোগ। তাঁর এই বাণী দিয়েই বহু...........
বাঙালি মুসলমান সমাজে উৎসবের উদ্ভব ও বিস্তার
‘মানুষের উৎসব কবে? মানুষ যেদিন আপনার মনুষ্যত্বের শক্তি বিশেষভাবে স্মরণ করে, বিশেষভাবে উপলব্ধি করে সেই দিন। যেদিন আমরা আপনাদিগকে প্রাত্যহিক প্রয়োজনের দ্বারা চালিত করি, সেদিন না; যেদিন আমরা আপনাদিগকে সংসারের সুখদুঃখের দ্বারা ক্ষুদ্র করি, সেদিন না, যেদিন প্রাকৃতিক নিয়মে পরস্পরের হস্তে আপনাদিগকে ক্রীড়াপুত্তলির মতো ক্ষুদ্র ও জড়োভাবে অনুভব করি সেদিন আমাদের উৎসবের দিন নহে- সেদিন...........
সৌন্দর্যে ও সংগ্রামে পথ চলা
সামাজিক ইতিহাসে বা Cultural history (যার সঙ্গে নারীর ইতিহাস নামক জ্ঞান শাখার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক)- সনাতন আকর ব্যতীত নতুন ধরনের আকরের সাহায্যে নির্মিত। সাহিত্যিক বা Literary Sources এই তুলনামূলক নতুন আকর বা উৎসের উল্লেখযোগ্য একটি। দীর্ঘস্থায়ী বা পুস্তকাবদ্ধ সাহিত্য ছাড়াও সাময়িকী বা periodicals/magazines এই উৎসের অন্তর্গত। এই উৎস বা আকর নিয়ে গবেষণায় লিপ্ত হলে নানা প্রশ্ন উদ্রেক হয় : কারা এই পত্র-পত্রিকা পড়ত? কী ছিল এর...........
বেগম মুশতারী শফির সঙ্গে আলাপচারিতা
বেগম মুশতারী শফি একাধারে সাহিত্যিক, সম্পাদক, বেতার ব্যক্তিত্ব, উদ্যোক্তা, নারীনেত্রী, সমাজসংগঠক এবং সর্বোপরি সাহসী মুক্তিযোদ্ধা। তিনি সেই ষাট দশকের শুরুতেই মফস্বল চট্টগ্রামে নারীদের সংগঠন ‘বা›ধবী সঙ্ঘ’ প্রতিষ্ঠা করেন, সেখান থেকে প্রকাশ করেন নারীদের নিয়মিত পত্রিকা ‘বান্ধবী’, এমনকি চালু করেন নারী পরিচালিত ছাপাখানা, ‘মেয়েদের প্রেস’, যা আজকের দিনের বিবেচনাতেও ছিল একটি...........
আমার ভাই
দুপুর থেকে আজকের দিনটা আমার জন্য খুব অস্থির একটা দিন হয়ে উঠেছে! জোর তুফান চলতে থাকার মতো অস্থির! এখন প্রায় মধ্য রাত। এখনও আমার অস্থির অস্থির, দম বন্ধ দম বন্ধ লাগাটা থামছে না। কী যে একটা তুলকালাম- ভেঙেচুরে ছত্রখান হওয়ার- দিন গেল আজকে! এমন দিনও মানুষের জীবনে আসে! এমন ভয়ানক ধাক্কা খাওয়া আর থেঁতলে যাওয়ার দিন! বলছি তো আজকে দুপুর থেকে অস্থির লাগছে! তবে আজকে দুপুরের আগে কী আমি...........
মধুবাতা ঝতায়তে
পরিবেশ দিবস ৫ই জুন, বিশ্বসুদ্ধু আমরা সবাই সেই বিষয়ে অবগত আছি। কত সভা-সমিতি হয়, কম সেমিনার হয়, কত বই বেরোয়, আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিশারদেরা আসেন, পন্ডিতী বক্তৃতা দেন, খবরের কাগজে তা নিয়ে লেখালিখি হয়। কিন্তু, ঐ, আমাদের মনের বৈঠকখানাঘর পর্যন্তই তাঁদের আনাগোনা। প্রাণের অন্দরমহলে তাঁদের প্রবেশ ঘটে না। আমরা নির্বিকার সিগারেট খাই, আবর্জনা স্তূপাকার করি, যত্রতত্র মলমূত্র ও কফ পরিত্যাগ...........
ব্যক্তিগত রমণীয় সন্ধ্যা
শেষ বিকেলের নরম আলোর ভেতর বাড়ির পুকুরে গোসল করছে আকলিমা বেগম। পুরো পুকুর ঘুরে ঘুরে সাঁতার কাটছে যেন সদ্যকিশোরী। আকলিমা বেগমের গোসল বরাবরই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে শেষ হয়। প্রথমে চুলো থেকে তুলে আনা একটুকরো ফ্রেস কয়লা দিয়ে দাঁত মাজবে ঘষে ঘষে, অনেকক্ষণ ধরে শাড়ির আঁচলের কোণা আঙুলে পেঁচিয়ে জিভ পরিষ্কার করবে, কুলি করবে, গড়গড়া করবে বারবার কুলি করবে। এভাবে মুখ ধোয়া শেষ হবার পর ...........
ভাষাসৈনিক প্রতিভা মুৎসুদ্দি - এক সত্যাগ্রহীর পথচলা
‘ছেলেবেলায় স্কুলে একটি বাক্য ভাব-সম্প্রসারণের জন্য বেশ জনপ্রিয় ছিল- ‘নাম মানুষকে বড় করে না, মানুষই নামকে বড় করে।’ বাড়িতেও বড়দের কাছে কীর্তিমান হবার জন্যে উপদেশ শুনতাম- মানুষের জীবনে নামের কোনো ভূমিকা নেই, মানুষ তার কর্মের দ্বারাই নামকে বড় করে। তা সত্ত্বেও কেউ কেউ আক্ষরিক অর্থেই কানা ছেলের নাম ‘পদ্মলোচন’ রেখে দেন। ক্ষীণ আশা নামের মহিমায় কানা দোষ তো কেটে যেতেও পারে। সুন্দর...........
গাঙকলা ও জোয়ারের সংহরণ
নদীর যে দিকটা কচুরির ঠেকে সবুজ-বেগুনি হয়ে আছে, জলিলের নেশা ওই দিকেই। অথচ খলিল কি না পারতপক্ষে দামের-জঙ্গলে ঢুকতে চায় না। দামের-জঙ্গলে নাও একবার ঢুকে পড়লে তাকে নানান ব্যারাচ্যারা পোহাতে হয়। তুমি যতই জল কেটে, পানা তুলে পথ কর না কেন-ভুলভুলাইয়ার ভিতর তোমাকে পড়তেই হবে। সামান্য ফাঁক পেয়ে নাওয়ের গলুই ঢুকিয়ে দিলেই নিস্তার তেমন মিলবে না। চক্ষের পলকেই কি না ওই শূন্যস্থান সবুজপাতা আর...........
রবীন্দ্রনাথ -তিন কন্যার পিতা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-মৃণালিনী দেবী দম্পতির সন্তানসংখ্যা ৫। এর মধ্যে কন্যা তিনটি, পুত্র দুই। মেয়েদের নাম মাধুরীলতা ওরফে বেলা, রেণুকা (রানি) এবং মীরা (অতসীলতা)। পুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর দীর্ঘজীবী হয়েছিলেন (৭৬ বছর)। কনিষ্ঠ সন্তান শমীন্দ্রনাথ মারা যায় মাত্র ১৩ বছর বয়সে। এই লেখার বিষয় শুধু কন্যাদের নিয়েই। রবীন্দ্রনাথের প্রথম সন্তান মাধুরীলতার (বেলা) জন্মতারিখ ২৫ অক্টোবর ১৮৮৬। এ সময়...........
সুভগা পৃথিবী
ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল সূর্য বিষয়ক গবেষণা থেকে ১৯৫০-এর দশকে। বিজ্ঞানীদের গবেষণা থেকে জানা গিয়েছিল যে সূর্য আগে বেশ কম উজ্জ্বল ছিল। আগে মানে অনেক অনেক কাল আগে। পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে কয়েক শত কোটি বছর। আজকাল সূর্য সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের অনেক নিখুঁত গাণিতিক মডেল আছে। এসব মডেল থেকে জানা যায়, তৈরি হবার পর থেকে প্রধান ধারার নক্ষত্রদের উজ্জ্বলতা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। সূর্যও একটি...........
সমুদ্রসৈকতে সাংকেতিক ভাষা
ভ্যাসন দ্বীপের সমুদ্রসৈকতে বেশ কিছু সূর্যস্নানার্থীর আগমন হয়েছে। আমরা নুড়িপাথর ও বালুকায় জুতা খুলে হাঁটতে শুরু করলে আজকের সঙ্গী হলেণের বন্ধু ডেভিড, জলে নাও ভাসানোর জন্য আমাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হন। আমরা ভেঙেপড়া ঢেউয়ের প্রান্তঘেঁষে হেঁটে যেতে যেতে নীল নোনাজল স্পর্শ করি। সূর্যালোকে ছলকে যাওয়া সাগরের পানি এমন হিম হয়ে আছে যে- আন্দাজ করি এখানে ডুব দেয়া দুরূহ হবে। জলে ভাসে পাল...........
সুরেলা গানের পাখি শ্যামা
যে বাগানটাতে ঢুকে পড়লাম আমরা- সেটার ভেতরে কোথাও জমে আছে আমাদের পায়ের পাতা ডোবাজল, জোঁক তো আছেই, আছে খুদে খুদে মশা। আমাদের কোমর সমান ঝোপঝাড় সারাটা বাগান জুড়েই। আমাদের কানে এল সূক্ষ্ম-তীক্ষ্ ও সুরেলা একটি শব্দ- কোনো পাখির ছানা খিদের কান্না ছড়িয়ে দিচ্ছে ওখানটাতে। আমরা কান পাতলাম, বারকয়েক বিভ্রান্তও হলাম, ঠাওর করতে পারছি না- সূক্ষ্ম-মিষ্টি কণ্ঠস্বরটা কোথা থেকে ভেসে আসছে। এই সিজনে...........
আবদুস সাত্তারের ব্রিজ
আবদুস সাত্তার আফ্রিকা যাচ্ছেন। পাসপোর্ট ভিসা সব রেডি। ঘটনাটা অবিশ্বাস্য। তার আগে আবদুস সাত্তার সম্পর্কে একটু ধারণা দেওয়া যাক। তিনি পিতার একমাত্র সন্তান এবং পিতা বিপুল সম্পত্তি রেখে গেছেন। পিতার মৃত্যুর পর তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন। সেটা অবশ্য শোকের কারণে না তার যুক্তি হচ্ছে পড়াশোনা করে বিসিএস দিয়ে হয়তো সরকারি চাকরি একটা জোগাড় করে অফিসে গিয়ে ঘুমাব। এর চেয়ে বরং বাসাতেই ঘুমাই।...........
ভালো বাসা
কৈ গেলা রে বন্ধু! ডাক্তার আমার সাথে, কেবলমাত্র আমার সাথেই কথা বলতে চাইলেন। আমি জানি তিনি কী বলবেন। আমার জানার সাথে হুবহু মিলে গেল ডাক্তারের কথা। ‘মিসেস খন্দকার! মন শক্ত করুন।’ আমি জানি এখন আমাকে বিভ্রান্ত দৃষ্টিতে তাকাতে হবে। আমি তাকালাম। বললাম, ‘মন শক্ত করতে হবে কেন? কী হয়েছে? কী হয়েছে সোলায়মানের? ডাক্তার! কিছু বলছেন না কেন? বলুন, কী হয়েছে আমার সোলায়মানের?’ এক্কেবারে বাংলা...........
মেয়েটি
যে যাই বলুক গে, যতদূর মনে পড়ছে আমি আসার সময় লাশ খুঁজে পাইনি। ব্যাপারটা রহস্যজনক। যার তার তো লাশ নয়; আমার নিজের লাশ। সে কথা থাক। বাবাকে পেলাম। মা ঘরে কী যেন করছেন। বাবা বুঝি মুড়ি খাবেন। বোঝা গেল এখনও ঈশ্বরের প্রতিনিধি বা স্বর্গের চিঠি তাঁরা পাননি। তবে বাবার আগে মায়ের তো স্বর্গের চিঠি পাবার কথা ছিল। দুনিয়াতে বেশ কিছু ভালো কাজ করে গেছেন। সদকায়ে জারিয়া চলছে। সে কারণেই হয়তো মাবাবার...........
ষাটের বিস্ময়
প্রাতঃকালে গাছের নীচে বসে থাকাও ভালো। আর যদি একরামুল হকের মতো আধা ঘণ্টার নিয়মিত কসরত কেউ করেন, রোগবালাই সহজে কাছে ঘেঁষবে না। একরামুল হকও বেশ সুস্থ আছেন। তিনিও জানতেন না আগে, যদি না ঠেকতেন। পঞ্চাশের কাছাকাছি এসে হঠাৎ করে তার মাথাঘোরা বেড়ে গেল। ভয় পেয়ে গেলেন। ডাক্তারের কাছে যেতে অনীহা। তথাপি স্ত্রীর বকুনি আর বন্ধু মাহবুব জোর করেই নিয়ে গেলেন এক প্রফেসর ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার...........
কুসুমের বাবা ও একটি কবর
একহারা গড়ন। লাবণ্যমাখা মুখ। পাখির সঙ্গে সখ্য, ফুলের সঙ্গে মিতালি। পাখি আর ফুল না দেখলে ভালো লাগে না মেয়েটির। এই মেয়েটির নাম কুসুম। সাভারের একটা বস্তিতে কুসুম থাকে বাবামার সঙ্গে। ঘরের চাল দিয়ে জল পড়ে, যখন বৃষ্টি নামে অঝোর ধারায়। জল জমা করার জন্যে ছোট একটা গামলা রাখে কুসুম। একপশলা বৃষ্টির একআঁজলা জল অপার আনন্দে মাখে মুখে চোখে চুলে। জল বড় টানে কুসুমকে, কিশোরী মেয়েটি বৃষ্টির জলে...........
২০১৫ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী গ্রন্থ: চেরনোবিলের কণ্ঠস্বর
আমরা বাতাস, আমরা পৃথিবী নই... মেসাব মামারদাসভিলি আমি জানি না মৃত্যু কিংবা ভালোবাসা নিয়ে আমার কী বলা উচিত? দুটো কি একই বিষয়? কোনটা নিয়ে আমার কথা বলা দরকার? আমরা ছিলাম নবদম্পতি। সব সময় আমরা একে অপরের হাত ধরে চলতাম। এমনকি দোকানে গেলেও। আমি তাকে বলতাম, ‘ভালোবাসি তোমাকে।’ কিন্তু আমি জানতাম না, এভাবে কতক্ষণ চলবে। আমার কোনো ধারণা ছিল না।... আমার স্বামী আগুন নির্বাপণের যে অফিসে কাজ করত...........
একদা আমার এক আশ্চর্য মধুর জীবন ছিল
কথাটি এমন কিছুই নয়, খুব সহজ সাধারণ ও সরল কথা। অন্তত কমলিকার তাই মনে হয়। দুজন আত্মজ- রাহুল আর রোমেল মায়ের মুখোমুখি বসে আছে। রোববার- হলি ডে, ছুটির দিন। এ দিনটিতেই মায়ের সাথে ওদের সব কথা। সাংসারিক কথা থেকে শুরু করে সুনামগঞ্জ শহরে ফেলে চলে আসা বাড়ির স্মৃতিমন্থন করা- সব কিছু নিয়ে কথা বলতে বলতে শুধু ছেলে-বউমারা নয়, বয়সের ভারে নুয়ে পড়া অমলকান্তিও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। গরম দুধে ভেজানো...........
মধ্যযামে আসেন তিনি কাঁদেন চুপিচুপি
: সারাটা রাত তুমি আমার সঙ্গে দুশমনি করেছ। কোনো কঠিন দুশমনিও এমন দুশমিন করে না। আমি তোমার ওপর খুব ক্ষিপ্ত। : ঘাড়ে আমার মাথা ক’টা আছে যে তোমার সঙ্গে দুশমনি করব! তাও আবার সারা রাত! তার পরও আবার পার পেয়ে যাব আমি! এ তো ভাগ্য আমার! : এমন স্পিডে ফ্যান ছেড়েছ যে আমার পিঠব্যথা শুরু হয়েছে। : ফ্যানের সঙ্গে পিঠব্যথার কী সম্পর্ক। ‘উত্তররতুন আইলো ঝড়, উড়াই নিল ঢেঁই আঁড়/তোর বাপের আড় ভাঙি রক্ত হড়ে’র মতো...........
দুই কন্যা
বাড়িতে নতুন ঝি এল কাজ করতে। বাবারে দেখতে যেন আমাদের গাঁয়ের নেড়ি। যেমন চলাফেরা তেমনি কথাবার্তা। ব্যাটা ছেলেদের কানকাটা- তাকে দেখে বলত পাড়ার মেয়েরা। কিন্তু সবাই আবার ভালোও বাসত। কারণ তার দুরন্তপনা বা ডানপিটে স্বভাবে এক ধরনের সরলতা ছিল- রাগ লাগলেও, কোথায় আবার ভালো লাগত। আজকের ঝিয়ের কথা বলতে গিয়ে আমার ছোটবেলাকার নেড়ির কথা যখন এসেই গেল তখন তার কথা না বললেই নয়। কারণ পরে প্রকাশ পাবে...........
একুশ ও বাঙালির ভাষাসংকট
সাতচল্লিশে সাম্প্রদায়িকতা এবং অখ- বাঙালির ভূমি খন্ডায়ন যে মহাসংকট তৈরি করে তার প্রবল চাপ কেবল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, মাতৃভাষা বাংলার ক্ষেত্রেও ভয়ানক অভিঘাত সৃষ্টি করে। অখ- বাংলার খন্ডিত পূর্ব-পশ্চিমাংশের কোটি কোটি উদ্বাস্তু মানুষ বুঝতে পারে তাদের অস্তিত্ব রক্ষা অর্থাৎ ভাবপ্রকাশের বাহন যে মাতৃভাষা বাংলা, তারও উদ্বাস্তুকরণ ঘটে গেছে। পরবাসের বাংলার বাচনভঙ্গি...........
মা
‘রোগীর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক?’ যার উদ্দেশ্যে প্রশ্নটি করা হয়েছে বোরখাপরা ছোটখাটো সেই নারীটি এমনিতেই খুব জড়সড় হয়ে বসেছিলেন। ডাক্তারের ভারী কণ্ঠের ধাতব শব্দে তিনি আরো কুঁকড়ে যান। প্রসিদ্ধ ডাক্তাররা যে অকারণেই রেগে থাকেন এটা তিনি জানতেন। তবে তাঁর কেন জানি মনে হলো, ভারী ভারী ডিগ্রিধারী এ-ডাক্তারটির কণ্ঠে রাগের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় খানিকটা বেশি। তিনি ভয় পেলেন। খুকখুক করে...........
কবি বৈজয়ন্তী সূত্রে প্রত্ন-আবিষ্কার
মধ্যযুগের সংস্কৃত কবি বৈজয়ন্তীর সাথে আমার প্রথম পরিচয় ১৩৬৯ বঙ্গাব্দে কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি বইতে। প্রায় তিন যুগ আগে বইটি আমি কিনেছিলাম। সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় লিখিত এই বইটির নাম ছিল ‘সংস্কৃত সাহিত্যে বাঙালির দান’। এখান থেকেই জেনেছিলাম জয়ন্তী বা বৈজয়ন্তী বর্তমান শরিয়তপুর জেলার পালং থানায় বসবাস করতেন। তাঁর পিতা ময়ূরভট্টের গড়া টোলে তিনি বিদ্যাশিক্ষা অর্জন করেন।...........
হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় : কম চেনা বড় মানুষ
আমি যখন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এসেছিলাম তখন আমার লক্ষ্য ছিল সেলিব্রিটি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সাহচর্য লাভ। কারণ তিনি তখন বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয়তম অনুষ্ঠানের উপস্থাপক। টিভি অনুষ্ঠানে তাঁর কথা শুনে মুগ্ধ হয়ে তাঁর সম্পর্কে খোঁজ করতে থাকি। এক পর্যায়ে জানতে পারি যে, তিনি ঢাকা কলেজের বাংলার অধ্যাপক। তখন আমি খারাপ ফল করে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সদ্য পার হয়েছি। সাহিত্যের ভূত...........
পরের বাসা
এই বাসা ছেড়ে দিতে হবে। বাড়িঅলা নোটিস দিয়েছেন একবার। কোম্পানি নোটিস দিয়েছে একবার। বাড়িঅলা মুখে বলেছিলেন। উর্দিপরা সিকিউরিটি গার্ড কোম্পানির নোটিস দিয়ে গেছে। ইংরেজি নোটিস। বিনীতভাবে অনুরোধ করা হয়েছে, দুই মাসের মধ্যে বাসা ছেড়ে দিলে কোম্পানি কৃতজ্ঞ থাকবে। এর মধ্যেই কোম্পানিকে কৃতজ্ঞ করে ফেলেছে অনেকে। ছয়তলা বিল্ডিং, আঠারটা ফ্ল্যাট। তেরটায় ভাড়াটে থাকত। এগারটা ফ্ল্যাটই খালি...........
সায়রার কোহিনুর, নেহরুর ‘হিরো’
ইউসুফ খান ওরফে দিলীপ কুমার তখন খ্যাতির শীর্ষে। ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রথম নায়কের ‘তকমা’ তাঁর জুটে গেছে। ১৯৪৪-এ নির্মিত, দেবিকা রানির ‘জোয়ার ভাটা’ থেকে শুরু করে পরপর তিরিশটি সিনেমায় দিলীপের শোভিত অভিনয়ে, সাফল্যে সম্মোহিত দর্শক, মোহিত শুভবুদ্ধি। ১৯৯৫-এ মাদ্রাজে এস এস ভাসামের যামিনী স্টুডিও-য় পয়গাম-এর কাজ চলছে। হঠাৎ খবর ছড়াল বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে সিনেমাটির ‘সেট’ দেখতে আসবেন...........
পরিবেশ নীতিবিদ্যা
দার্শনিক কান্ট একবার বলেছিলেন তিনি আকাশপানে তাকালে যেমন দেখতে পান অসংখ্য তারা, ঠিক তেমনি নিজের পানে অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে তাকালে দেখতে পান অসংখ্য নৈতিক নিয়ম। এই নৈতিক নিয়ম কীভাবে তৈরি হয়েছিল? প্রত্যেকটি প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম আমাদেরকে একধরনের নৈতিকতা দেয় বটে কিন্তু এটাই শেষ কথা নয়; ধর্ম-অতিরিক্ত নৈতিকতার অস্তিত্বও রয়েছে। প্রত্যেকটি সমাজেরই কিছু রীতি-নীতি রয়েছে। রয়েছে সংস্কৃতি।...........
অন্যরকম শিক্ষার খোঁজে
একটি ছেলে যে-কি না আর দশটা শিশুর মতোই পরিবারের সান্নিধ্য খোঁজে, আজকাল প্রায়ই সে অন্যমনস্ক ক্লাসে। আনমনা শিশুটির চোখে উদাসী ভাবনা। কিসের? এ-সন্ধান করবার সময় কি শিক্ষকদের থাকে? বা স্বাধীনতা? তাঁকে নিজের পরিবার-সংসার সামলে, পড়া তৈরি করে, তবেই স্কুলে যেতে হয়। ক্লাসরুমে থাকে সিলেবাস শেষ করবার তাড়া। সেখানে শিশুদের ‘একক’ভাবে ভাবনার সময় কোথায়? সেখানে কাজ করে সামগ্রিকতা। কিন্তু...........
তৃপ্তি মিত্রের বাড়ি
‘তৃপ্তি মিত্র’ নামটি আবার সামনে এল কান চলচ্চিত্র উৎসবের কল্যাণে। সম্প্রতি এই উৎসবে আন্দ্রেই তারকোভস্কি, জাঁ লুক গদার প্রমুখ জগৎখ্যাত পরিচালকের চলচ্চিত্রের পাশাপাশি আখতার. জে. কারদার পরিচালিত জাগো হুয়া সাভেরা (১৯৫৯) নামের যে চলচ্চিত্রটি উৎসবের ধ্রুপদী বিভাগে প্রদর্শিত হয় তাতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তৃপ্তি মিত্র ও খান আতাউর রহমান। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী...........
কল্পনায় স্বভূমি
যে ঘরে বসে আমি নিজের কাজ করি, তার দেওয়ালে সস্তার ফ্রেমে বাঁধানো একটা পুরনো ছবি ঝোলে। ১৯৪৬ নাগাদ কখনো তোলা একটা বাড়ির ছবি, তখনও আমি সেই বাড়িটাতে জন্মাইনি। বাড়িটা একটু অদ্ভুত, সামনে পেছনে ঢালু হয়ে নেমে আসা টালির ছাদের পুরোনো ভিক্টোরিয় ধাঁচের তিনতলা বাড়ি, আর তার দুই কোণে দুটো গোল পরিধির টাওয়ার, মাথাগুলোয় টালি দিয়ে ছুঁচলো টুপির মতো করা। এল পি হার্টলির উপন্যাস ‘দ্য গো-বিটুইন’র সেই...........
দিনগত কপটতা
যে বেঞ্চটায় আমরা বসলাম, তার কাছাকাছি একটা বেঞ্চে মেয়েটা শুয়েছিল। কেবল শুয়ে নয়, সে আসলে অঘোরে ঘুমাচ্ছিল। মধ্য দুপুরে খানিকটা রোদের মধ্যে সে কী করে ওভাবে পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে, তার দিকে চোখ গেলে কয়েকবার আমার মাথায় এই ভাবনাটা এল। তারপর ভাবলাম যখন ঘুমিয়েছে তখন হয়তো ওখানে ছায়াই ছিল, পরে সূর্যের নড়াচড়ায় হিজল গাছের ছায়া সরে গেছে। তবে বাতাসটা ধোঁকা দেয়নি, মাঝেমধ্যেই তার মলিন শাড়িটাতে দোলা...........
শিবগঞ্জের পথে পথে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা। দেশের সবচেয়ে বেশি আমের চাষ হয় এখানেই। শুধু তাই নয় সবচেয়ে বড় আমের হাটটিও বসে শিবগঞ্জের কানসাটে। এছাড়াও এ উপজেলায় আছে প্রাচীন গৌড়ের নানান ঐতিহাসিক স্থাপনা। আমের এই মৌসুমে তাই ঘুরে আসুন শিবগঞ্জ থেকে। ভ্রমণের শুরুতেই বেড়িয়ে নিন শিবগঞ্জের আমবাগানে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকেই মূলত আমবাগানের শুরু। শহরের সড়কগুলোর পাশে পাশে ঝুলে থাকা আম দেখার...........
একবিংশতি পুরাণ
প্রস্তাবনা : মহাভারত কথা অমৃত সমান... ‘পা-বদিগের বিক্রমের খ্যাতি অতিশয় বৃদ্ধি পাইতেছে শুনিয়া ধৃতরাষ্ট্রের মন দূষিত হইল। দুশ্চিন্তার জন্য তাঁহার নিদ্রার ব্যাঘাত হইতে লাগিল। তিনি মন্ত্রীশ্রেষ্ঠ রাজনীতিজ্ঞ কনিককে বলিলেন, দ্বিজোত্তম, পা-বদিগের খ্যাতি শুনিয়া আমার অসূয়া হইতেছে। তাদের সঙ্গে সন্ধি বা বিগ্রহ কী কর্তব্য আপনি বলুন আমি আপনার উপদেশ পালন করিব। কনিক বলিলেন, মহারাজ...........
রবীন্দ্রনাথের ভ্রমণসাহিত্যে পুষ্প-বৃক্ষ
রবীন্দ্রনাথের সমগ্র সৃষ্টিকর্মে ভ্রমণকাহিনি একটি বড় স্থান দখল করে আছে। এসব ভ্রমণকাহিনি যেমন চারপাশের বর্ণনায় সমৃদ্ধ তেমনি অনেক সরস উপস্থাপনায়ও প্রাণবন্ত। কোথাও কোথাও প্রকৃতির বর্ণনা আমাদের নিয়ে যায় ভিন্ন এক জগতে। রবীন্দ্রনাথ যখন বিদেশ ভ্রমণে গিয়ে সম্পূর্ণ অচেনা এক জগতে বসে সেখানকার পুষ্প-তরুর কথা আমাদের শোনান তখন অবাক না হয়ে পারি না। যেখানে আমরা নিজেদের আশপাশের...........
যেভাবে অনুপ্রবেশ হলো
বিভূতিভূষণের চাঁদের পাহাড়ের শঙ্করের কথা একটু বলে নেওয়া যাক। অজপাড়াগাঁয়ের ছেলে শঙ্কর, ওর পায়ের তলায় সর্ষেদানা, কোথাও স্থির থাকতে পারে না। সারাক্ষণ দূরদেশ-দূরপাহাড় হাতছানি দেয় তাকে। প্রাণটা তার সবসময় উচাটন হয়েই থাকে অভাবিত অ্যাডভেঞ্চারের জন্য। সেই শঙ্কর কীভাবে কীভাবে রূপকথার গল্পের মতো পৌঁছে গেল আফ্রিকার কিলিমানজারো মানে চাঁদের পাহাড়ের কাছে! মৃত্যু থেকে সে চুল ব্যবধান...........
‘আমি গ্রামকে জীবনবোধ ও রসবোধের আধার বলে মনে করি’
সাক্ষাৎকার: বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকে অতি উল্লেখযোগ্য এক নাম- মাসুম রেজা। চিত্রনাট্য লিখে চলেছেন ছোটপর্দার পাশাপাশি বড়পর্দার জন্যেও। নাটকে অবদান রাখার জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৫ পেয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন কথাসাহিত্যিক মোজাফ্ফর হোসেন ভালো নাটকের সংখ্যা কমে গেছে,...........
ক্রীড়াঙ্গনের সেরা নারী
‘সেরা’ শব্দটার মধ্যে একটা অন্যায় আছে। কোনো একটা নির্দিষ্ট খেলায়, নির্দিষ্ট সময়কালে হয়তো ফলাফল দেখে শ্রেষ্ঠত্ব নিরুপণ করা সম্ভব। কিন্তু মহাকালের বিচারে বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন ক্রীড়াবিদের মধ্যে আসলে তুলনা করাই অসম্ভব একটা ব্যাপার। এক যুগের পেলের সঙ্গে আরেক যুগের ম্যারাডোনা বা এই যুগের মেসির তুলনাই করা কঠিন। এক এক সময়ে খেলার ধরন বদলে যায়, খেলার মানও বদলে যায়। এরপর আবার ভিন্ন...........

বিশেষ সংবাদ